কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু করেছেন তাঁর হাজারো সমর্থক। সোমবার (৫ অক্টোবর) ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ এ তথ্য জানিয়েছে। দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে দলটির গভীর বিরোধের মধ্যেই এ কর্মসূচি শুরু হলো। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতৃত্বাধীন উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে গত রোববার (৪ অক্টোবর) লংমার্চ শুরু হয়। ইসলামাবাদে পৌঁছানোর আগে বিভিন্ন স্থানে যাত্রাবিরতির পরিকল্পনা রয়েছে।
মার্চের নেতৃত্ব দেওয়া প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, কারাগারে থাকা নেতার মুক্তির দাবিতে সবাইকে, বিশেষ করে তরুণদের, রাজপথে বেরিয়ে আসতে হবে।
২০২২ সালে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই তাঁর দল ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়। ইমরান তাঁর ক্ষমতাচ্যুতির জন্য সেনাবাহিনীকে দায়ী করে আসছেন। তবে সেনাবাহিনী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
লংমার্চটি মূলত ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়ার কথা ছিল। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার পিটিআইয়ের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিলে কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়। তবে সপ্তাহান্তে সেই আলোচনা ভেস্তে যায়।
দুই বছর আগে পিটিআইয়ের সর্বশেষ বড় বিক্ষোভ নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল। এবারও ইসলামাবাদ ও এর আশপাশে হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পার্লামেন্ট, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও বিদেশি দূতাবাসগুলো অবস্থিত রাজধানীর সরকারি এলাকা কনটেইনার দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে।
সরকার ঘোষণা দিয়েছে, লংমার্চের অংশগ্রহণকারীদের ইসলামাবাদে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেছেন, তাঁরা এ পরিস্থিতির স্থায়ী অবসান ঘটাবেন। রাজধানীতে পিটিআইকে নিজেদের ইচ্ছামতো ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবন ব্যাহত করতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া নাকভির ভাষ্য, আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ক্রমবর্ধমান জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় সরকারের সন্ত্রাসবিরোধী নীতিতে সহযোগিতা করতে ইমরানের দল রাজি না হওয়ায় আলোচনা ভেঙে গেছে।
তবে পিটিআই সরকারের এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির দাবি, সরকার অন্যায্যভাবে তাদের ওপর বিভিন্ন ছাড় মেনে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে খাইবার পাখতুনখোয়ায় জঙ্গি হামলা বেড়েছে।
নাকভি ও সরকারের অন্য মন্ত্রীরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইমরানের দল নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকার রাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী নীতি অনুসরণে ব্যর্থ হলে আইনি ও সাংবিধানিক বিধানের মাধ্যমে তাদের সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
এ অবস্থায় ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে শুরু হওয়া লংমার্চকে ঘিরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদে মিছিলকারীদের প্রবেশ ঠেকাতে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং পিটিআইয়ের কর্মসূচি কতটা শান্তিপূর্ণ থাকে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
সানা/আপ্র/৫/১০/২০২৬