প্রয়াত ব্রিটিশ রাজবধূ প্রিন্সেস ডায়ানার জীবন, ব্যক্তিত্ব ও মৃত্যুকে ভাইয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরে নতুন একটি বই লিখেছেন তার বড় ভাই চার্লস স্পেন্সার। ডায়ানার মৃত্যুর ৩০তম বার্ষিকী সামনে রেখে মঙ্গলবার বইটির ঘোষণা দেন তিনি। সময়ের সঙ্গে ডায়ানাকে ঘিরে প্রতিষ্ঠিত হওয়া অনেক ‘অসত্য’ ধারণা দূর করাই বইটি লেখার অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন স্পেন্সার।
প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই প্রথম চার্লস স্পেন্সার তার বোনকে নিয়ে প্রকাশ্যে এত বিস্তারিতভাবে নিজের স্মৃতি ও ভাবনা তুলে ধরছেন। ‘সোয়ান সং: ডায়ানা, মাই সিস্টার’ শিরোনামের বইটি আগামী ২২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রকাশিত হবে। বইটি ১২টি ভাষায় অনূদিত হবে বলেও জানিয়েছে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানটি।
৬২ বছর বয়সী চার্লস স্পেন্সার বলেন, ডায়ানার মৃত্যুর ৩০তম বার্ষিকী সামনে রেখে তাকে আবারো অসংখ্য সাক্ষাৎকারের অনুরোধ করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিই তাকে নিজের স্মৃতি ও ভাবনাগুলো লিখে রাখার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করেছে।
ডায়ানাকে নিয়ে প্রচলিত নানা ধারণার সমালোচনা করে স্পেন্সার বলেন, এসব মতামতের অনেকগুলোই মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল- যা সময়ের সঙ্গে মানুষের কাছে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভাইয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে ডায়ানার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরাই তার বইটির মূল উদ্দেশ্য বলেও জানান তিনি।
১৯৯৭ সালের আগস্টে প্যারিসে ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত হন প্রিন্সেস ডায়ানা। তার মৃত্যুর পর লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে অনুষ্ঠিত শেষকৃত্যে দেওয়া আবেগঘন বক্তব্যে চার্লস স্পেন্সার তার দুই ছেলে প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
তিন দশক পরও বিশ্বজুড়ে ডায়ানার জনপ্রিয়তা ও প্রভাব অটুট। মানবিক কর্মকাণ্ড, ব্যক্তিত্ব ও রাজপরিবারের প্রচলিত রীতির বাইরে তার স্বতন্ত্র অবস্থানের কারণে তিনি এখনো মানুষের স্মৃতিতে বিশেষ স্থান দখল করে আছেন। তবে তার দুই ছেলে উইলিয়াম ও হ্যারির সম্পর্ক বর্তমানে দূরত্বপূর্ণ। ব্রিটিশ রাজপরিবারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতপার্থক্যের মধ্যেই দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ সীমিত। ডায়ানার সাবেক স্বামী তৃতীয় চার্লস বর্তমানে যুক্তরাজ্যের রাজা। ডায়ানার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি তার সাবেক প্রেমিকা ক্যামিলাকে বিয়ে করেন, যিনি বর্তমানে রানি ক্যামিলা।
রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের মধ্যেও চার্লস স্পেন্সারের সঙ্গে দুই রাজপুত্রের সম্পর্ক ভালো রয়েছে বলে জানা গেছে। চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরুতে হ্যারি, তার স্ত্রী মেগান ও তাদের দুই সন্তান ইংল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত স্পেন্সারের পৈতৃক বাড়ি আলথর্পে যান। সেখানে তারা ডায়ানার সমাধিও পরিদর্শন করেন বলে জানা গেছে।
নতুন বইটি নিয়ে স্পেন্সারের প্রত্যাশা, যারা ডায়ানার স্মৃতি হৃদয়ে ধারণ করেন, তাদের কাছে এটি বিশেষ অর্থ বহন করবে। একই সঙ্গে ডায়ানার জীবনের সময়টি দেখার সুযোগ না পাওয়া তরুণ প্রজন্মের কাছেও বইটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে মনে করেন তিনি।
ভাইয়ের চোখে ডায়ানাকে তুলে ধরে স্পেন্সার তাকে এমন এক অনন্য ও প্রাণবন্ত মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যিনি ছিলেন ভালোবাসায় পূর্ণ, আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত; আবার একই সঙ্গে আত্মসংশয়েও ভুগতেন। তার ভাষ্যে, ডায়ানা জীবনকে গভীরভাবে উপভোগ করেছিলেন এবং পৃথিবীকে আরো সুন্দর করে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সূত্র: এনডিটিভি।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৯/৮/২০২৬