চলমান যুদ্ধের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে শোনা গেল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কণ্ঠ। ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিরল ও তারিখবিহীন একটি ভিডিওতে তাঁকে একটি ধর্মীয় একাডেমিক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে এবং এক শিক্ষার্থীর গবেষণাপত্র মূল্যায়ন করতে দেখা গেছে।
ভিডিওতে মোজতবা খামেনিকে ইরানের শাসনব্যবস্থার ইসলামি নিরাপত্তা মডেল নিয়ে আলোচনা করতে শোনা যায়। এক শিক্ষার্থীর গবেষণাপত্র মূল্যায়ন করে তিনি ২০-এর মধ্যে ১৯ দশমিক ৫ নম্বর দেন এবং গবেষণাপত্রটিকে ‘ত্রুটিহীন’ বলে মন্তব্য করেন। তবে ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চলমান সংঘাতের প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলায় তাঁর বাবা নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জনসমক্ষে তাঁর উপস্থিতি অত্যন্ত সীমিত। ফলে হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন-এমন গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের খবর প্রকাশিত হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স গত এপ্রিলে সূত্রের বরাতে জানিয়েছিল, মোজতবা খামেনি মুখমণ্ডলের আকৃতিতে পরিবর্তন এবং পায়ে গুরুতর আঘাতের পর সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও এর আগে তাঁকে আহত এবং সম্ভবত চেহারায় গুরুতর পরিবর্তন ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছিলেন।
তবে ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করে আসছেন, আঘাত পেলেও তাঁর নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতায় কোনো বাধা তৈরি হয়নি। রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছিল, শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকলেও মোজতবা খামেনি মানসিকভাবে সজাগ ছিলেন এবং অডিও সম্মেলনের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিচ্ছিলেন। যুদ্ধ পরিচালনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছিল।
নতুন ভিডিওটি প্রকাশের পর তাঁর স্বাস্থ্য ও নেতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনা কিছুটা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে ভিডিওটি পুরোনো কি না এবং বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা কেমন-এ দুটি বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে ভিডিওটিকে তাঁর বর্তমান শারীরিক সক্ষমতার নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবেও বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
মোজতবা খামেনির প্রকাশ্য উপস্থিতির এই বিরল দৃশ্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র। হরমুজ প্রণালিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্ক জটিল অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
ফলে যুদ্ধ, নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যখন নানা প্রশ্ন রয়েছে, তখন সর্বোচ্চ নেতার কণ্ঠ শোনা যাওয়ার এই ভিডিও স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে মনোযোগ কেড়েছে। তবে ভিডিওটির ধারণকাল ও তাঁর বর্তমান স্বাস্থ্য সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে অতিরিক্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শই দিচ্ছে পরিস্থিতি।
সানা/আপ্র/২৬/৮/২০২৬