সাজসজ্জায় সোনার গহনার ব্যবহার বহু পুরোনো। সময় ও ফ্যাশনের পরিবর্তনের সঙ্গে অলংকারের নকশায় বৈচিত্র্য এলেও সোনার প্রতি নারীদের আকর্ষণ কমেনি। বরং সোনার দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের কাছে এটি সৌন্দর্যের পাশাপাশি সঞ্চয় ও আর্থিক নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যারা বছরের পর বছর অল্প অল্প করে সোনা কিনে রাখেন কিংবা বিয়ের সময় পরিবারের কাছ থেকে সোনার গহনা পান, বর্তমান বাজারে তাদের সেই সম্পদের আর্থিক মূল্যও বেড়েছে। বিশেষ করে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম বর্তমানে ভরি প্রতি আড়াই লাখ টাকার কাছাকাছি।
সোনার বর্তমান বাজারমূল্য
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ ২৫ আগস্ট সোনা ও রুপার গহনার নতুন দাম নির্ধারণ করে। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়। নির্ধারিত দামে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনা ভ্যাটসহ ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার গহনার দাম প্রায় ১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।
সৌন্দর্য ও সাজসজ্জায় সোনা
সোনার গহনার অন্যতম আকর্ষণ এর উজ্জ্বলতা ও দীপ্তি। পোশাক, ত্বকের রং ও সাজের ধরন অনুযায়ী নারীরা বিভিন্ন ধরনের সোনার অলংকার ব্যবহার করেন। বিয়ে, উৎসব, পারিবারিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনে সোনার গহনার ব্যবহার এখনও ব্যাপক।
বাংলাদেশের বিয়ের অনুষ্ঠানেও সোনার গহনার রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। কনের সাজে গলার হার, কানের দুল, চুড়ি, আংটি কিংবা অন্যান্য অলংকার ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
সোনা শুধু অলংকার নয়, সঞ্চয়ও
সোনার প্রতি আকর্ষণের আরেকটি বড় কারণ এর আর্থিক মূল্য। অনেকের কাছে সোনার গহনা এমন এক ধরনের সম্পদ, যা প্রয়োজনে বিক্রি কিংবা বন্ধক রেখে অর্থ সংগ্রহ করা যায়। পারিবারিক জরুরি পরিস্থিতি, চিকিৎসা ব্যয় বা অন্য কোনো আর্থিক সংকটে সোনার গহনা অর্থের জোগান দিতে পারে।
এ কারণে অনেক নারী সোনাকে শুধু সৌন্দর্যবর্ধক অলংকার হিসেবে দেখেন না; বরং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ের মাধ্যম হিসেবেও বিবেচনা করেন।
বিয়ে ও পারিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্ক
বিয়ের সঙ্গে সোনার গহনার সম্পর্ক বহু পুরোনো। কনেকে সোনার গহনা উপহার দেওয়া, পরিবারের পুরোনো অলংকার নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়া কিংবা মায়ের গহনা মেয়ের বিয়েতে ব্যবহার করার রীতি এখনও প্রচলিত।
ফলে একটি সোনার গহনার সঙ্গে শুধু এর বাজারমূল্য নয়, পারিবারিক স্মৃতি, আবেগ ও ঐতিহ্যও জড়িয়ে থাকে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে গহনা হস্তান্তরের ফলে এর প্রতি আবেগ আরও গভীর হয়।
সামাজিক মর্যাদার প্রতীক
একসময় পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা ও সামাজিক অবস্থানের সঙ্গে সোনার পরিমাণকে সরাসরি যুক্ত করে দেখা হতো। সময়ের সঙ্গে সেই ধারণায় পরিবর্তন এলেও সোনা এখনও অনেকের কাছে আভিজাত্য ও সম্পদের প্রতীক।
বিশেষ করে বিয়ে বা বড় কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে ভারী সোনার গহনা পরার প্রবণতা থেকে এর সামাজিক গুরুত্বের বিষয়টি বোঝা যায়।
টেকসই হওয়াও বড় কারণ
সোনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি সহজে মরিচা ধরে না বা ক্ষয় হয় না। যথাযথভাবে সংরক্ষণ করলে দীর্ঘদিন এর সৌন্দর্য ও মূল্য ধরে রাখা সম্ভব। এ কারণেও সোনার গহনা দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ হিসেবে অনেকের কাছে আকর্ষণীয়।
সব মিলিয়ে নারীদের সোনার প্রতি আকর্ষণকে শুধু সৌন্দর্য বা ফ্যাশন দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। সৌন্দর্য, পারিবারিক ঐতিহ্য, সামাজিক মর্যাদা, আবেগ এবং আর্থিক নিরাপত্তা—সবকিছুর সমন্বয়েই সোনার গহনা নারীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব ধরে রেখেছে।
এসি/আপ্র/২৯/০৮/২০২৬