প্রেমনির্ভর সিনেমা ও নাটক নির্মাণ এবং সম্প্রচার বন্ধে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে আলোচনায় আসা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন নিজেই রোমান্টিক সিনেমা ও প্রেমনির্ভর গানের ভক্ত। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম ঘেঁটে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জনস্বার্থে প্রেমনির্ভর সিনেমা ও নাটক নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠান আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুন। নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, দেশের চলচ্চিত্র ও নাটক শিল্পে প্রেম ও অতিরিক্ত রোমান্টিক বিষয়বস্তুর আধিক্য তৈরি হয়েছে। এসব কনটেন্টের কারণে যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার থেকে অমনোযোগী হয়ে পড়ছে বলেও দাবি করা হয়। পাশাপাশি পরকীয়া ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে স্বাভাবিক ও মহিমান্বিতভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
তবে তার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পুরোনো পোস্টে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। মেটা ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের টাইমলাইনে বিভিন্ন সময় রোমান্টিক সিনেমা দেখা, গান শোনা এবং সেসব নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তিনি।
গত ৩১ জুলাই একটি পোস্টে মামুন জানান, রোমান্টিক ঘরানার ইংরেজি ভাষার নাট্যধর্মী সিরিজ ‘দ্য গ্রেট অ্যান্ড পাওয়ারফুল জিনি’ দেখে তিনি আনন্দিত হয়েছেন।
এর আগে গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর হলিউডের ‘দ্য ডিকটেটর’ সিনেমা দেখার কথা জানিয়ে সেটিকে তার কাছে অসাধারণ লেগেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই বছরের আগস্টে বলিউডের একাধিক গান শোনার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান। এর মধ্যে এমন সিনেমার গানও ছিল, যেগুলোর গল্প ত্রিভুজ প্রেমকে কেন্দ্র করে নির্মিত।
গত বছরের ৫ আগস্ট বলিউডের ‘রাধে শ্যাম’ সিনেমা নিয়ে পোস্ট করে মামুন এটিকে জটিল প্রেমের গল্প হিসেবে উল্লেখ করেন। একই বছরের ৯ মে ছুটির দিনে হলিউডের ‘স্টারডাস্ট’ সিনেমা দেখার কথা জানিয়ে সেটিও তার ভালো লেগেছে বলে জানান।
এ ছাড়া গত বছরের ২২ মার্চ ‘দ্য ট্যুরিস্ট’ সিনেমা দেখার কথা জানান তিনি। জনি ডেপ ও অ্যাঞ্জেলিনা জোলি অভিনীত ওই সিনেমাটিও রোমান্টিক ঘরানার।
অন্যদিকে, আইনি নোটিশে আইনজীবী মামুন দাবি করেছেন, অতিরিক্ত প্রেম ও রোমান্টিক বিষয়বস্তু যুবসমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তার মতে, এসব কনটেন্টের মাধ্যমে অনৈতিক সম্পর্ককে স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় বাড়াচ্ছে।
নোটিশে সংবিধানের ২১(১), ২৩ ও ৩৯ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়, জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতাও শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের মাধ্যমে আরোপিত যুক্তিসংগত বাধানিষেধের অধীন।
আইনি নোটিশে প্রেমভিত্তিক নাটক ও সিনেমার পরিবর্তে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষাভিত্তিক চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে নোটিশে বলা হয়েছে, তা না হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করা হবে।
এসি/আপ্র/২৯/০৮/২০২৬