দেশে গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে সম্প্রতি লোডশেডিং বেড়েছে। কাজের ব্যস্ততার মধ্যে কিংবা দিনের শেষে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে বিরক্তি ও অস্বস্তি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে বিদ্যুৎহীন সময়কে চাইলে মানসিক প্রশান্তি ও শারীরিক সুস্থতার জন্যও কাজে লাগানো যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ না থাকায় যখন মানুষ কিছু সময়ের জন্য মুঠোফোন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র থেকে দূরে থাকে, তখন সেটি এক ধরনের ‘ডাউনটাইম’ হিসেবে কাজ করতে পারে। এ সময় মস্তিষ্কের ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্ক সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পায়, যা স্মৃতিচারণ, চিন্তাভাবনা ও সৃজনশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত। বই পড়া, ধাঁধা সমাধান কিংবা অন্যান্য অফলাইন কাজ মনোযোগ ধরে রাখতেও সহায়ক হতে পারে।
ব্যায়াম করতে পারেন
লোডশেডিংয়ের সময় হালকা ব্যায়াম, শরীরের বিভিন্ন অংশের টান দূর করার ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম করা যেতে পারে। নিয়মিত শারীরিক কসরত মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে সহায়তা করে। তাই বিদ্যুৎ না থাকার সময়টিকে শরীরচর্চার কাজে লাগানো যেতে পারে।
বই পড়া ও লেখালেখি
বিদ্যুৎ না থাকলে মুঠোফোন বা কম্পিউটারের পরিবর্তে কাগজের বই পড়ার অভ্যাস করা যায়। গল্পের বই, পত্রিকা কিংবা নিজের পছন্দের কোনো লেখা পড়ার পাশাপাশি ডায়েরি, কবিতা বা গল্প লেখাও যেতে পারে। এতে স্ক্রিন থেকে বিরতি নেওয়ার পাশাপাশি মনোযোগ ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হয়।
পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান
লোডশেডিংয়ের সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মুখোমুখি গল্প করা যেতে পারে। শিশুদের সঙ্গে লুডু, দাবা বা ক্যারামের মতো খেলায় অংশ নেওয়াও সময় কাটানোর ভালো উপায়। পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের সঙ্গে গল্প বা পুরোনো স্মৃতি নিয়ে আলোচনা করলে পারস্পরিক সম্পর্কও আরও দৃঢ় হতে পারে।
গান শুনতে পারেন
পছন্দের গান বা শান্ত সুর মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে। বিদ্যুৎ থাকলে আগেই চার্জ করে রাখা যন্ত্রে গান শোনা কিংবা নিজের কোনো বাদ্যযন্ত্র থাকলে সেটি বাজানো যেতে পারে। চাইলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে গানও গাওয়া যায়।
নিরাপত্তার বিষয়টি মনে রাখুন
লোডশেডিংয়ের সময় কিছু বিষয়ে বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি। বিদ্যুৎ চলে গেলে ফ্রিজের দরজা অপ্রয়োজনে বারবার খোলা উচিত নয়। দরজা বন্ধ থাকলে সাধারণভাবে একটি ফ্রিজের ভেতরের খাবার প্রায় চার ঘণ্টা পর্যন্ত নিরাপদ থাকতে পারে।
আলো বা বাতাসের জন্য ঘরের ভেতরে জেনারেটর, কয়লা বা অন্য কোনো জ্বালানি পোড়ানো একেবারেই উচিত নয়। এতে কার্বন মনোক্সাইডসহ বিষাক্ত গ্যাস জমে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আগুনের ঝুঁকি এড়াতে মোমবাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। সম্ভব হলে চার্জ দেওয়া বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার করা নিরাপদ। মোমবাতি ব্যবহার করলে তা দাহ্য বস্তু থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।
তাই লোডশেডিংকে শুধু বিরক্তির কারণ হিসেবে না দেখে কিছু সময়ের জন্য প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকার সুযোগ হিসেবেও নেওয়া যায়। বই পড়া, ব্যায়াম, গান শোনা কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর মাধ্যমে এই সময়টিকে আনন্দদায়ক ও অর্থবহ করে তোলা সম্ভব।
এসি/আপ্র/২৯/০৮/২০২৬