ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার নতুন মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন মৌরিতানিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অভিজ্ঞ কূটনীতিক ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ। তিনি সংস্থাটির বিদায়ী মহাসচিব হিসেইন ব্রাহিম তাহার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সৌদি আরবের জেদ্দায় ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলের ২৩তম বিশেষ অধিবেশনে সদস্য ৫৭ দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদকে নতুন মহাসচিব নির্বাচিত করা হয়। পরে তিনি মহাসচিব হিসেবে শপথ নেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ সদস্য দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তাঁকে নির্বাচিত করা তাঁর দীর্ঘ কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান এবং তিন দশকের বেশি সময়ের সেবার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি।
নতুন মহাসচিব বলেন, সদস্য দেশগুলো তাঁর ওপর যে আস্থা রেখেছে, সেই আস্থার মর্যাদা দিতে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করবেন এবং ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশগুলোর প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই তিনি ফিলিস্তিন ইস্যুকে সংস্থাটির অগ্রাধিকারের শীর্ষে রাখার অঙ্গীকার করেন। রাজনৈতিক, মানবিক ও সাংস্কৃতিক—তিন ক্ষেত্রেই ফিলিস্তিন ইস্যু ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে থাকবে বলে জানান তিনি।
একই সঙ্গে ইসলামবিদ্বেষ মোকাবিলা, মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণাসূচক বক্তব্য ও বিদ্বেষ প্রতিরোধ, পারস্পরিক সংলাপ ও সম্মান জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৃহত্তর অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
৬৬ বছর বয়সী ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বহুপক্ষীয় সংস্থায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি মৌরিতানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি ইয়েমেনে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইয়েমেনের রাজনৈতিক সংকট সমাধানে জাতিসংঘের কূটনৈতিক উদ্যোগে সে সময় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
২০১৪ সালে তিনি লিবিয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিবের উপ-বিশেষ প্রতিনিধি, আবাসিক সমন্বয়কারী ও মানবিক সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইয়েমেনে জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের প্রতিনিধি ছিলেন তিনি।
২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সিরিয়ায়ও একই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ।
দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার অধিকারী এই সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন এক সময়ে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার নেতৃত্ব নিলেন, যখন ফিলিস্তিন সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, ইসলামবিদ্বেষ, মুসলিম বিশ্বের মানবিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মুসলিম দেশগুলোর অবস্থান—সবকিছুই সংস্থাটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
সানা/আপ্র/২৯/৮/২০২৬