চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুলিশের অভিযানের সময় ঘরের ফলস ছাদে অস্ত্রসহ লুকিয়ে ছিলেন মোবারক হোসেন ওরফে ‘গলাকাটা মোবারক’। পুলিশ সদস্যরা ঘরে ঢোকার চেষ্টা করলে সেখান থেকে গুলি ছোড়েন তিনি। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে তাঁকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হলে নিজের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চান মোবারক। পুলিশের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
গত বুধবার (২৬ আগস্ট) ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকায় মোবারককে গ্রেফতারে অভিযান চালায় পুলিশ। ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের এক সদস্য তাঁকে অস্ত্র ফেলে আত্মসমর্পণ করতে বলেন। তাঁকে আশ্বস্ত করে বলা হয়, জীবন বাঁচাতে হলে অস্ত্র ফেলে পুলিশের হাতে ধরা দিতে হবে।
মোবারক তখন বলেন, “অস্ত্র দিলে সমস্যা হবে।” পুলিশ সদস্যরা তাঁকে বোঝাতে থাকেন যে অস্ত্র ফেলে দিলে তাঁকে কেউ মারবে না। একপর্যায়ে তাঁকে নিচে নেমে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরপর মোবারক বলেন, “আপনারা কসম করেন, আমাকে কিছু করবেন না।”
পুলিশ সদস্যরা তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেন, “কিছু করব না। খোদার কসম, কিছু করব না।” তাঁকে ঘরে থাকা এক বৃদ্ধের কাছে অস্ত্রটি দিয়ে দিতে বলা হয়।
পুলিশের এক সদস্য তাঁকে আরো বলেন, তাঁদের কাছে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র রয়েছে এবং তাঁর সহযোগী ডেভিড ইমন গ্রেফতার হয়েছেন। একপর্যায়ে মোবারক আবারো নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চান। পুলিশ সদস্য তাঁকে কসম করে আশ্বস্ত করলে তিনি বলেন, “থ্যাঙ্ক ইউ, থ্যাঙ্ক ইউ, ভালো হইছে।” পরে তাঁর অস্ত্র সমর্পণের মধ্য দিয়ে অভিযান শেষ হয়।
পুলিশের ভাষ্য, অভিযানের সময় মোবারক পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। তাঁর ছোড়া গুলিতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন।
পরে মোবারকসহ তাঁর তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে তিনটি পিস্তল, ২৩ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও চারটি শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, মোবারকের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে। তিনি বিদেশে অবস্থানরত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
মোবারককে গ্রেফতারের অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ। অভিযান শেষে তাঁর বিরুদ্ধে এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
সানা/আপ্র/২৯/৮/২০২৬