সমসাময়িক তারকাদের মধ্যে গায়ক আসিফ আকবর তুলনামূলক দেরিতে ফেসবুক ব্যবহার শুরু করেছিলেন। তবে শুরু করার পর অল্প সময়েই সেখানে তাঁর একটি বড় অনুসারী গোষ্ঠী তৈরি হয়। সম্প্রতি একটি সিনেমার অনুষ্ঠানে তিনি জানান, এখন আর ফেসবুক ব্যবহার করছেন না। এরই মধ্যে তাঁর ব্যবহৃত ফেসবুকের ব্যক্তিগত পরিচয় ও পেজ—দুটিই নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে।
ফেসবুক থেকে দূরে সরে যাওয়ার পর আগের চেয়ে ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পী। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের সঙ্গে আলাপকালে নিজের সিদ্ধান্তের কারণও তুলে ধরেন তিনি।
আসিফ আকবরের ভাষ্য, একসময় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে পরিচিত ফেসবুক এখন নানা ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে আগের অবস্থানে নেই। বিশেষ করে যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিভিন্ন তথ্য ও খবর ছড়িয়ে পড়ায় তিনি বিরক্ত। তাঁর মতে, ফেসবুকে কোন খবর সত্য আর কোনটি গুজব—তা বোঝা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়েছে।
আসিফ আকবর বলেন, ‘ফেসবুক ছিল একটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। কিন্তু ফেসবুকে এখন সেখানে ধর্ম প্রচার হচ্ছে, অনলাইন অর্ডার করা হচ্ছে। ফেসবুক এখন আর ফেসবুকের জায়গায় নেই। কোন নিউজ বিশ্বাস করব, কোনটি সত্য—বলা যায় না। আমাকে রিউমর স্ক্যান করে ফোন দিয়ে বলতে হয়, “ভাই, আমি তো এটা বলিনি।”’
কথা প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘তারপর তাঁরা (রিউমর স্ক্যান) স্ক্যান করে দেখেন। এরপর আবার সেটি প্রকাশ করতে হয়। এটা একটা রেসপনসিবিলিটির জায়গা। কিন্তু সেটি যদি ঠিক না থাকে, তাহলে মানুষকে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত হতে হয়।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য প্রকাশের আগে তা যাচাই করা জরুরি বলেও মনে করেন আসিফ। বিশেষ করে তারকাদের নিয়ে নানা বক্তব্য, মন্তব্য কিংবা খবর ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই না থাকলে সাধারণ মানুষ সহজেই বিভ্রান্ত হন। নিজের ক্ষেত্রেও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে জানান তিনি। কোনো বক্তব্য না দিয়েও তাঁর নামে কিছু ছড়িয়ে পড়লে সেটি সত্য নয়—এ কথা বোঝাতেও তাঁকে বারবার ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে।
এমন অভিজ্ঞতার পরই ফেসবুক থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আসিফ আকবর। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে সরে গেলেও সংগীতের কাজ থেকে দূরে নেই তিনি। নতুন গান রেকর্ডিংয়ের পাশাপাশি নিয়মিত মঞ্চ পরিবেশন নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন এই শিল্পী।
ফেসবুক ছেড়ে দেওয়ার ফলে নিজের জন্য পাওয়া অতিরিক্ত সময় এখন পরিবার ও পড়াশোনায় দিচ্ছেন বলে জানান আসিফ। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে অনেক সময় যেত। এখন সেই সময়টা পরিবারকে দিচ্ছি। পড়াশোনায় দিচ্ছি। মনে হচ্ছে, আরো জানা দরকার। এখন পর্যন্ত সময়টা আমার নিজের খুব ভালো কাটছে।’
সানা/আপ্র/২৯/৮/২০২৬