নরওয়ের রাজা পঞ্চম হ্যারাল্ড চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে অসলোর জাতীয় হাসপাতালে ৮৯ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। গত সপ্তাহে একটি বিরল রোগের চিকিৎসার জন্য তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। খবর বিবিসি।
অসলোর রাজপ্রাসাদের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে রাজা হ্যারাল্ড শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর রাজপ্রাসাদের রাজকীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। মৃত্যুর আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজপরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে তাঁকে দেখেন। এ সময় সাধারণ মানুষও রাজপ্রাসাদের সামনে ফুল রেখে তাঁর আরোগ্য কামনা করেন।
হ্যারাল্ডের মৃত্যুর পর তাঁর ৫৩ বছর বয়সী ছেলে হাকন নরওয়ের নতুন রাজা হয়েছেন। শুক্রবারই তিনি সরকারের সঙ্গে বিশেষ রাষ্ট্রীয় কাউন্সিলে বসবেন।
১৯৩৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি অসলোর কাছে স্কাউগুম রাজকীয় এস্টেটে জন্মগ্রহণ করেন হ্যারাল্ড। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানি নরওয়ে আক্রমণ করলে তিনি মা ও পরিবারের সঙ্গে প্রথমে সুইডেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেন।
যুদ্ধ শেষে দেশে ফিরে পড়াশোনা ও সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। ১৯৫৭ সালে যুবরাজ হন তিনি। বাবা রাজা পঞ্চম ওলাভের মৃত্যুর পর ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি সিংহাসনে আরোহণ করেন।
দীর্ঘ ৩৫ বছর সিংহাসনে থাকা হ্যারাল্ড নরওয়েতে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সংস্কারবাদী রাজা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৪ শতকের পর নরওয়ের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রথম রাজা ছিলেন তিনি।
রাজপরিবারের প্রচলিত ঐতিহ্য ভেঙে সাধারণ পরিবারের এক নারীকে বিয়ে করা এবং দেশের কঠিন সময়ে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রাখার মাধ্যমে রাজতন্ত্রকে আধুনিক রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন হ্যারাল্ড। রাজপরিবারের পর্যবেক্ষকেরা তাঁকে বিনয়ী ও সম্মানিত শাসক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সানা/আপ্র/২৮/৮/২০২৬