আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জন একজন মুমিনের জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ইবাদত, সৎকর্ম এবং উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে বান্দা মহান আল্লাহর আরও কাছে পৌঁছাতে পারে। ইসলামি শিক্ষায় এমন বহু আমলের কথা বলা হয়েছে, যা মানুষকে আল্লাহর রহমত ও ভালোবাসার উপযুক্ত করে তোলে। নিচে তেমনই আটটি গুরুত্বপূর্ণ আমল তুলে ধরা হলো।
১. বেশি বেশি জিকির করা
আল্লাহর স্মরণ অন্তরে প্রশান্তি এনে দেয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, "জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের প্রশান্তি।" (সূরা আর-রাদ: ২৮)
জিকির শুধু মুখে তাসবিহ পাঠ নয়, বরং সব সময় আল্লাহকে স্মরণ ও তাঁর মহিমা হৃদয়ে ধারণ করাও এর অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার—এই জিকিরগুলো নিয়মিত পাঠের বিশেষ ফজিলত রয়েছে।
২. সালাতে যত্নবান হওয়া
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যম। হাদিসে এসেছে, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। ফরজ নামাজের পাশাপাশি তাহাজ্জুদ, সালাতুল হাজতসহ নফল নামাজ আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে বিশেষ সহায়ক।
৩. নিয়মিত ইস্তিগফার করা
মানুষ ভুল করে, কিন্তু আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আদমসন্তান সবাই ভুলকারী, আর সর্বোত্তম ভুলকারী তারা, যারা বারবার তওবা করে। (তিরমিজি)
নিয়মিত ইস্তিগফার অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে এবং আল্লাহর রহমত লাভের পথ সুগম করে।
৪. দরুদ শরিফ পাঠ করা
প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করলে আল্লাহ বান্দার ওপর বহু রহমত বর্ষণ করেন। সহিহ মুসলিমের হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত নাজিল করেন।
৫. আত্মীয়স্বজন ও মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা
ইসলামে আল্লাহর ইবাদতের পাশাপাশি বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও অসহায় মানুষের প্রতি সদাচরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সুন্দর চরিত্র ও সামাজিক দায়িত্ব পালনও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
৬. বেশি বেশি দোয়া করা
দোয়া মুমিনের সবচেয়ে শক্তিশালী ইবাদতগুলোর একটি। নিজের জন্য যেমন দোয়া করতে হবে, তেমনি অন্যের জন্যও দোয়া করা উচিত। হাদিসে এসেছে, কোনো মুসলমান তার অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য দোয়া করলে ফেরেশতারা বলেন, *"তোমার জন্যও অনুরূপ হোক।"* (সহিহ মুসলিম)
৭. কোরআন তিলাওয়াত করা
পবিত্র কোরআন আল্লাহর বাণী। নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত, অর্থ বোঝা এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা বান্দাকে আল্লাহর আরও নিকটবর্তী করে। হাদিসে এসেছে, কোরআনের প্রতিটি অক্ষর তিলাওয়াতে একটি নেকি এবং প্রতিটি নেকি দশগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। (তিরমিজি)
৮. আল্লাহ সম্পর্কে উত্তম ধারণা রাখা
মুমিনের উচিত সব সময় আল্লাহর রহমতের প্রতি আশাবাদী থাকা এবং তাঁর প্রতি উত্তম ধারণা পোষণ করা। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন, *"আমার বান্দা আমার সম্পর্কে যেমন ধারণা করে, আমি তার সঙ্গে তেমন আচরণ করি।"* (বুখারি, মুসলিম)
কঠিন পরিস্থিতিতেও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা, তাঁর রহমতের আশা করা এবং গুনাহের জন্য ভয় ও অনুশোচনা—এসবই একজন মুমিনকে আল্লাহর আরও নিকটবর্তী করে।
আল্লাহর নৈকট্য অর্জন কোনো একদিনের কাজ নয়; বরং এটি ধারাবাহিক ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও উত্তম চরিত্র গঠনের ফল। জিকির, সালাত, তওবা, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ, দোয়া এবং মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচরণের মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রহমতের পথে অগ্রসর হতে পারেন।
এসি/আপ্র/১৯/০৭/২০২৬