বাংলাদেশের ই-পাসপোর্টে আবারও যুক্ত হচ্ছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধ। একই সঙ্গে পাসপোর্টের জলছাপে (ওয়াটারমার্ক) যুক্ত করা হচ্ছে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মারকচিহ্ন। নতুন নকশায় শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও শহীদ ওয়াসিম আকরামের ছবি স্থান পাচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে সরকারি আদেশ জারি করা হয়েছে। আদেশে ই-পাসপোর্ট বুকলেটে থাকা ছবি পুনর্বিন্যাস করে নকশা পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংশোধনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন জলছাপ বিন্যাস করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ই-পাসপোর্টের তথ্য পাতায় যুক্ত হবে—‘ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের ক্ষেত্রে বৈধ’ বাক্যটি। এর আগে বাংলাদেশের পাসপোর্টে এই বক্তব্য থাকলেও ২০২১ সালে তা বাদ দেওয়া হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একসময় বাংলাদেশের পাসপোর্টে লেখা থাকত—‘ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ’। পরে দক্ষিণ আফ্রিকা ও তাইওয়ানের নাম বাদ গেলেও ইসরায়েলের নাম নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিল। ২০২১ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে ই-পাসপোর্ট চালুর পর ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি সরিয়ে দেওয়া হয়। তখন বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন আদেশ অনুযায়ী, এবার পাসপোর্টের জলছাপেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন নকশায় যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদের দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা ছবি, উত্তরার আজমপুরে পানি হাতে থাকা শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ এবং জাতীয় পতাকার জার্সি পরা চট্টগ্রামের ছাত্রদল নেতা শহীদ ওয়াসিম আকরামের ছবি যুক্ত করে নাম দেওয়া হয়েছে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪’।
নতুন জলছাপে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবেও বিভিন্ন স্থাপনা ও চিত্র যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় ফুল শাপলা, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, জাতীয় পাখি দোয়েল, শহীদ মিনার, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, জাতীয় সংসদ ভবন, সুপ্রিম কোর্ট, কান্তজিউ মন্দির, লালবাগ দুর্গ, কক্সবাজারের ঝাউবন ও সমুদ্রসৈকত, টাঙ্গুয়ার হাওর, জাতীয় মাছ ইলিশ, নীলগিরি, আহসান মঞ্জিল, জাতীয় ফল কাঁঠাল, স্বর্ণমন্দির, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, রাজশাহীর আমবাগান, পানামনগর, কার্জন হল, ষাটগম্বুজ মসজিদ, পাট, চা-বাগান, সুন্দরবন, হলি রোজারি চার্চ এবং শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ‘সংগ্রাম’ চিত্রকর্ম।
তবে পাসপোর্টের প্রথম প্রচ্ছদে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। এর ভেতরের অংশে জাতীয় স্মৃতিসৌধের ছবি আগের মতোই থাকবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন নকশায় আগের কিছু ছবি বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতার স্তম্ভ, মডেল মসজিদ, বঙ্গবন্ধু সেতু, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, নৌকাসহ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের ছবি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মেহেরপুরের মুজিবনগর সরকারের স্মৃতিসৌধ।
ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে নতুন পাসপোর্টে এসব পরিবর্তন কার্যকর হবে। বর্তমানে মজুত থাকা পাসপোর্ট শেষ হওয়ার পর নতুন নকশার পাসপোর্ট ছাপানো শুরু হবে। প্রতিদিন প্রায় ২৪ থেকে ২৫ হাজার পাসপোর্ট সরবরাহ করা হয় এবং পাসপোর্টের জলছাপ ও প্রিন্টিংয়ের কাজ বিদেশে সম্পন্ন করা হয়।
কর্মকর্তারা জানান, নতুন সংস্করণের পাসপোর্ট চালু হলেও পুরোনো পাসপোর্টধারীদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো সমস্যা তৈরি হবে না। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নবায়নের সময় নতুন নকশার পাসপোর্ট দেওয়া হবে। ৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্টে নতুন জলছাপ ব্যবহার করা হবে।
সানা/আপ্র/২০/৭/২০২৬