গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

রাশিয়ার কাছে যে কারণে আর ‘গ্রেট’ নয় ব্রিটেন

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:২৫ পিএম, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২০:২০ এএম ২০২৬
রাশিয়ার কাছে যে কারণে আর ‘গ্রেট’ নয় ব্রিটেন
ছবি

রাশিয়ার কূটনীতির সবচেয়ে পরিচিত মুখ সের্গেই লাভরভ -এএফপি’র ফাইল ছবি

রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক শব্দচয়নে একটি বিষয় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। যুক্তরাজ্যকে তারা এখন আর ‘গ্রেট ব্রিটেন’ কিংবা ‘ইউনাইটেড কিংডম’ নামে উল্লেখ না করে শুধু ‘ব্রিটেন’ বলছে। বিষয়টি নিছক শব্দের পরিবর্তন, নাকি মস্কোর চোখে লন্ডনের মর্যাদা ও অবস্থান সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ইঙ্গিত—তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।

২০২৫ সালে রাশিয়ার কূটনৈতিক কার্যক্রমের ফলাফল পর্যালোচনা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। শুধু ‘ব্রিটেন’ বলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাউকে অপমান করা তাঁর উদ্দেশ্য নয়। তবে তাঁর মতে, দেশটিকে এভাবেই ডাকা উচিত। কারণ, কোনো দেশ নিজেকেই ‘মহান’ বলে অভিহিত করে—এমন উদাহরণ হিসেবে তিনি ‘গ্রেট ব্রিটেন’-এর কথা উল্লেখ করেন। আরেকটি উদাহরণ ছিল ‘গ্রেট লিবিয়ান জামাহিরিয়া’, যে রাষ্ট্র এখন আর নেই।

লাভরভের বক্তব্য অবশ্য যুক্তরাজ্যের আনুষ্ঠানিক নামের ইতিহাসের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। ‘গ্রেট ব্রিটেন’ নামটির ‘গ্রেট’ মূলত দেশের মহত্ত্ব বোঝাতে ব্যবহৃত হয়নি; ভৌগোলিক পরিচয় হিসেবে এটি গ্রহণ করা হয়। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস নিয়ে গঠিত দ্বীপটিকে ফ্রান্সের ব্রিটানি অঞ্চল থেকে আলাদা করে চিহ্নিত করতেই ‘গ্রেট ব্রিটেন’ নামটি ব্যবহৃত হয়েছে।

তবে রুশ পররাষ্ট্রনীতির সাম্প্রতিক বক্তব্যে ‘ব্রিটেন’ শব্দটির ব্যবহার যে রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ কম। ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাজ্যের সক্রিয় ভূমিকা এবং মস্কোর সঙ্গে লন্ডনের ক্রমবর্ধমান বিরোধের মধ্যেই এই শব্দচয়ন সামনে এসেছে।

দূরত্ব বাড়ছে মস্কো-লন্ডনের: দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির সর্বশেষ দৃষ্টান্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই কেলিনের দায়িত্ব শেষ হওয়া। ২০১৯ সালের নভেম্বর থেকে যুক্তরাজ্যে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কেলিন গত জুলাইয়ে লন্ডন ছাড়েন। এরপর সেখানে রুশ দূতাবাসের দায়িত্ব সাময়িকভাবে নিম্নপদস্থ কূটনীতিকের হাতে রয়েছে।

কেলিনের স্থলাভিষিক্ত কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে নিয়োগ না করায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে জল্পনা তৈরি হয়, মস্কো হয়তো লন্ডনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের মর্যাদা কমিয়ে দিচ্ছে। তবে রাশিয়ার দূতাবাস এমন ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগের সিদ্ধান্ত যথাসময়ে নেওয়া হবে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, রাষ্ট্রদূত নিয়োগ রুশ প্রেসিডেন্টের এখতিয়ার এবং বিষয়টি যথাযথ সময়ে ঘোষণা করা হবে।

তবে আনুষ্ঠানিক অবনমন না ঘটলেও দুই দেশের সম্পর্ক যে গভীর সংকটে রয়েছে, তা স্পষ্ট। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, লন্ডনের কর্মকাণ্ডের কারণে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান সমর্থক হিসেবে কিয়েভকে সামরিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রিটিশ অস্ত্র ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও মস্কো লন্ডনকে প্রকাশ্যে হুঁশিয়ার করেছে।

পুরোনো বৈরিতার দীর্ঘ ছায়া: রাশিয়া ও ব্রিটেনের বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। রুশ সাম্রাজ্যের সময় দুই দেশ মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিল। ইতিহাসে এ ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ‘দ্য গ্রেট গেম’ নামে পরিচিত। উনিশ শতকে ক্রিমিয়ার যুদ্ধেও ব্রিটেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা জোটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।

বিশ শতকে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরো নানা পর্যায়ে দেখা যায়। রুশ বিপ্লবের পর ব্রিটিশ নীতির একটি অংশ ছিল বলশেভিক সরকারের বিরোধিতা করা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের বিখ্যাত ‘ফুলটন ভাষণ’ও সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পশ্চিমা শক্তির মধ্যকার নতুন বৈরিতার প্রতীক হয়ে ওঠে। এর আগে সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের একটি ব্রিটিশ পরিকল্পনা ‘অপারেশন আনথিঙ্কেবল’ নিয়েও আলোচনা হয়েছিল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পুরোনো ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন রূপ দেখা যাচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাজ্য কিয়েভের অন্যতম দৃঢ় সমর্থক। সামরিক সহায়তার পাশাপাশি ইউক্রেনকে ঘিরে পশ্চিমা দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগেও লন্ডন সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। বিপরীতে মস্কো মনে করছে, ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাজ্য সরাসরি রাশিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

ফলে ‘গ্রেট ব্রিটেন’ থেকে শুধু ‘ব্রিটেন’—রুশ সরকারি ভাষায় এই পরিবর্তনকে একদিকে যেমন ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা যায়, অন্যদিকে এটি মস্কোর চোখে লন্ডনের সঙ্গে সম্পর্কের গভীর অবনতির প্রতিফলনও হতে পারে। তবে শব্দের এই পরিবর্তনকে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

কারণ, দুই দেশের সম্পর্কের অবস্থা গুরুতর হলেও মস্কো এখনো কূটনৈতিক সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করেনি এবং নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগের সম্ভাবনাও খোলা রেখেছে। রাশিয়া ও যুক্তরাজ্য—উভয়ই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হওয়ায় তাদের মধ্যে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য নয়, ইউরোপের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক রাজনীতির জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। 
সানা/ডিসি/আপ্র/৫/৯/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অগ্রযাত্রা থামবে না
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অগ্রযাত্রা থামবে না

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইরানের অগ্রগতির গতি ধীর করতে পারলেও দেশকে অচল করে দিতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছে...

খার্ক দ্বীপের কাছে ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খার্ক দ্বীপের কাছে ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্ক দ্বীপের কাছে পারস্য উপসাগরে একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্ক...

গাড়ির ইঞ্জিনে লুকিয়ে ১২২ কিলোমিটার পাড়ি বিড়ালছানার
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাড়ির ইঞ্জিনে লুকিয়ে ১২২ কিলোমিটার পাড়ি বিড়ালছানার

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে গাড়ির ইঞ্জিনের ভেতর লুকিয়ে প্রায় ৭৬ মাইল বা ১২২ কিলোমিটার পথ পাড়ি...

বিয়ের পাত্রী না পেয়ে ২৯ যুবকের আত্মহত্যা
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিয়ের পাত্রী না পেয়ে ২৯ যুবকের আত্মহত্যা

বিয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্রী না পাওয়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে ভারতের মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলায় চলতি বছ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের বিল সংসদে

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রিয় পাঠক, আপনি মনে করেন র‌্যাব বিলুপ্তির এই উদ্যোগ সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে