সাম্প্রতিক সময়ে ফিফা সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে চরম বিপদের মুখে থাকলেও জিয়ান্নি ইনফান্তিনো শুরু থেকেই পাশে পেয়েছেন আফ্রিকার দেশগুলোকে। প্রশাসনিক এই বিরোধের চেয়ে আফ্রিকার ফুটবল কর্মকর্তারা ফুটবলের উন্নয়নকেই বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন বেনিন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মার্সেলিন বোকোভে।
তার মতে, এই মহাদেশের ফুটবলের অগ্রগতিই ফিফার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে মূল নিয়ামক হয়ে উঠবে। পোল্যান্ডে শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপের আগে এমন মন্তব্য করেন বোকোভে।
উল্লেখ্য, বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিশ্বকাপের একটি অংশ বিক্রি করার ইনফান্তিনোর প্রস্তাবকে ঘিরে সৃষ্ট জটিলতা ও প্রশাসনিক বিতর্কের পর এটিই ফিফার প্রথম কোনো বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা।
ইউরোপীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এবং ফুটবলের অন্যান্য অংশীদারদের তীব্র বিরোধিতার মুখে গত জুলাই মাসের শেষদিকে নিজের এই পরিকল্পনা বাতিল করেন ইনফান্তিনো।
প্রস্তাবটিতে বিশ্বকাপ ও অন্যান্য ফিফা টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্বের মূল্য ধরা হয়েছিল ২০ বিলিয়ন ডলার। ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামক সংস্থা গঠনের প্রস্তাব দেওয়ার সময় নিজের ‘ভুলগুলোর’ জন্য ক্ষমাও চেয়েছিলেন ইনফান্তিনো।
তবে পরবর্তীতে এই ভাবনাকে সমর্থন করে তিনি জানান, এটি বাস্তবায়িত হলে দরিদ্র জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনগুলোর মধ্যে আরও বেশি অর্থ বিতরণের একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারত।
এই প্রস্তাবের পর থেকেই তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হতে শুরু করে। তবে আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে এখনও অনড় রয়েছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতেও আফ্রিকান ও দক্ষিণ আমেরিকান কনফেডারেশনগুলোর সমর্থন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন এই সুইস-ইতালিয়ান প্রশাসক।
পোল্যান্ডে শুক্রবার বেনিনের অনুশীলন সেশনের ফাঁকে সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের সঙ্গে কথোপকথনে সরাসরি ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রকাশ না করলেও নিজেদের মনোভাব স্পষ্ট করে দেন বোকোভে। তিনি বলেন, ইনফান্তিনো সঠিক ব্যক্তি কিনা তা বলার এখতিয়ার তার নেই, তবে গত ১০ কিংবা তারও বেশি বছরে যা করা হয়েছে, তার একটি রেকর্ড তারা খতিয়ে দেখেন।
তার ভাষায়, তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফুটবলের উন্নয়নে আফ্রিকার অগ্রগতি, আর ভবিষ্যতে মূলত এর ওপর ভিত্তি করেই তাদের অবস্থান নির্ধারিত হবে। ২০২৭ সালের নির্বাচনে ইনফান্তিনোকে ভোট দেবেন কিনা—এমন সরাসরি প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান বোকোভে।
তিনি বলেন, এমন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য এখনও অনেকটাই তাড়াতাড়ি, কারণ ততদিনে পরিস্থিতি ঠিক কোন দিকে মোড় নেবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়। বোকোভে আরও জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকান ফুটবলে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তবে একই সঙ্গে তার যুক্তি, এই অগ্রগতি ধরে রাখতে আরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। তার ভাষায়, বিনিয়োগ ইতোমধ্যেই আছে, তবে একই পথে এগিয়ে যেতে হলে আরও বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে এবং এখনও যেসব চাহিদা রয়েছে, সেগুলোর সমাধান করা জরুরি।
এদিকে ঘানা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য গিডিয়ন ফোসু নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন অনেকটা সরাসরিই। তিনি বলেন, আফ্রিকায় ফুটবলের উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য ইনফান্তিনোর যে আন্তরিক আগ্রহ, তা তার কাছে প্রশংসার যোগ্য বলে মনে হয়।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইনফান্তিনোর জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন সবাই নিজেদের সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠে প্রদর্শন করবেন। তার ভাষায়, আফ্রিকায় নারী ফুটবল এবং সামগ্রিকভাবে ফুটবলের উন্নয়নের জন্য যদি সঠিক কাঠামো ও উদ্দেশ্য বজায় থাকে, তাহলে তার মনে হয় সবারই এই উদ্যোগকে সমর্থন করা উচিত।
উল্লেখ্য, চলতি অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে চারটি আফ্রিকান দল—বেনিন, নাইজেরিয়া, ঘানা এবং তানজানিয়া।
ডিসি/আপ্র/০৫/০৯/২০২৬