অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ৫১ বছর বয়সী প্রকৌশলী ও দীর্ঘদিনের কর্মী জন টার্নাস। নতুন দায়িত্বে তাঁর বার্ষিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। এর সঙ্গে রয়েছে লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের শেয়ার পুরস্কার। ফলে সব শর্ত পূরণ হলে তাঁর বার্ষিক পারিশ্রমিকের লক্ষ্য দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
অ্যাপলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শেয়ারভিত্তিক এই পারিশ্রমিকের বড় অংশই কোম্পানির শেয়ারের কর্মদক্ষতা ও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পুরো অর্থ সরাসরি নগদ বেতন হিসেবে তাঁর হাতে যাবে না।
মঙ্গলবার প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব জন টার্নাসের কাছে হস্তান্তর করেন টিম কুক। ২০১১ সালে স্টিভ জবসের কাছ থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় ১৫ বছর অ্যাপলের নেতৃত্ব দিয়েছেন কুক। তাঁর নেতৃত্বে কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৪ লাখ ৭০ হাজার কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
প্রধান নির্বাহী পদ ছাড়লেও অ্যাপলের সঙ্গে থাকছেন কুক। নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর বার্ষিক মূল বেতন হবে ২০ লাখ ডলার। এর সঙ্গে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের শেয়ার পুরস্কার পাবেন তিনি। এর অর্ধেক কর্মদক্ষতার লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে যুক্ত এবং বাকি অর্ধেক চার বছর ধরে পাওয়ার কাঠামো রাখা হয়েছে।
২০২৫ সালে প্রধান নির্বাহী হিসেবে টিম কুকের মোট পারিশ্রমিক ছিল ৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি। নতুন পদে তাঁর পারিশ্রমিক কমলেও নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে অ্যাপলের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ও কৌশলগত বিষয়ে তাঁর ভূমিকা থাকবে।
অন্যদিকে, জন টার্নাস অ্যাপলের হার্ডওয়্যার প্রকৌশল বিভাগের প্রধান হিসেবে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০১ সালে অ্যাপলে যোগ দেওয়ার পর তিনি আইফোন, আইপ্যাড, ম্যাক, অ্যাপল ওয়াচ ও এয়ারপডসসহ বিভিন্ন পণ্যের উন্নয়ন ও প্রকৌশল কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০২১ সালে তিনি হার্ডওয়্যার প্রকৌশল বিভাগের প্রধান হন।
অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহীর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে কোম্পানির অবস্থান শক্ত করা। প্রযুক্তি প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এই ক্ষেত্রে অ্যাপল পিছিয়ে আছে বলে বিনিয়োগকারী ও বিশ্লেষকদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছে। নতুন পণ্য উদ্ভাবনের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে অ্যাপলের পণ্য ও সেবায় আরো কার্যকরভাবে যুক্ত করার চাপ থাকবে টার্নাসের ওপর।
এ ছাড়া আইফোননির্ভরতা কমিয়ে নতুন পণ্য ও সেবার মাধ্যমে ব্যবসা আরো বৈচিত্র্যময় করা, চীনের ওপর উৎপাদননির্ভরতা কমানো এবং বিশ্বজুড়ে জটিল সরবরাহব্যবস্থা সামলানোও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের বার্ষিক আইফোন উন্মোচন অনুষ্ঠানে নতুন প্রধান নির্বাহী হিসেবে প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আসবেন টার্নাস। সেখানে ভাঁজযোগ্য আইফোনসহ নতুন পণ্য উন্মোচনের সম্ভাবনা রয়েছে।
অ্যাপলের নতুন নেতৃত্বে টিম কুকের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সরবরাহব্যবস্থাপনার দক্ষতার ধারাবাহিকতা কতটা বজায় থাকবে, একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন পণ্যের দৌড়ে টার্নাস কতটা সফল হবেন—এখন সেদিকেই নজর প্রযুক্তি বিশ্বের।
সানা/ডিসি/আপ্র/৫/৯/২০২৬