মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইরানের অগ্রগতির গতি ধীর করতে পারলেও দেশকে অচল করে দিতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ।
তিনি বলেছেন, সামরিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধের পথ বেছে নিয়েছে’। ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুপক্ষের নতুন কৌশলের মূল ভিত্তি এখন অর্থনীতি। তবে নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এই অর্থনৈতিক যুদ্ধও সফলভাবে প্রতিহত করা সম্ভব।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
‘নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা সংক্রান্ত সদর দপ্তর’-এর মতো বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে রেজা আরেফ বলেন, শত্রুপক্ষের নতুন ফ্রন্ট বা কৌশলের মূল ভিত্তিই এখন অর্থনীতি। নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশটি এই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে।
নিষেধাজ্ঞার প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার একটি নির্দিষ্ট মূল্য রয়েছে। এটি ইরানের অগ্রযাত্রার গতি কমিয়ে দেয়, তবে দেশকে কখনো অকার্যকর করে দিতে পারবে না।
নিষেধাজ্ঞার একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন ইরানের এই শীর্ষ কর্মকর্তা। তাঁর ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞার কারণে শুধু যন্ত্রাংশ সংযোজননির্ভর শিল্প কিংবা আমদানিনির্ভর শিল্পের পরিবর্তে দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনের দিকে ইরান এগিয়েছে।
এর ফলে বিদেশ থেকে ডলারের বিনিময়ে পণ্য ও খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির প্রবণতা কমানো সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রেজা আরেফের বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও তীব্র হয়েছে। তেহরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করলেও ইরানের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি থামিয়ে দিতে পারেনি।
সানা/ডিসি/আপ্র/৫/৯/২০২৬