যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে গাড়ির ইঞ্জিনের ভেতর লুকিয়ে প্রায় ৭৬ মাইল বা ১২২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে একটি নবজাতক বিড়ালছানা। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার পর গাড়ির ইঞ্জিন থেকে সেটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে কারভিল শহরে। পিটারসন হেলথের এক কর্মী প্রতিদিনের মতো কর্মস্থলে পৌঁছে গাড়ি পার্ক করার পর ইঞ্জিনের ভেতর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পান। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গিয়ে তিনি ইঞ্জিনের অংশের মধ্যে একটি ছোট্ট বিড়ালছানাকে দেখতে পান।
ধারণা করা হচ্ছে, টেক্সাসের রকস্প্রিংস শহর থেকে কারভিল যাওয়ার আগেই বিড়ালছানাটি গাড়ির ইঞ্জিনের ভেতরে ঢুকে পড়েছিল। দুই শহরের দূরত্ব প্রায় ৭৬ মাইল। পুরো পথ ইঞ্জিনের ভেতরেই লুকিয়ে ছিল সেটি। এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় গাড়ির ইঞ্জিনের তাপ, ঝাঁকুনি ও চলন্ত যন্ত্রাংশের ঝুঁকি পেরিয়ে কীভাবে সেটি বেঁচে রইল, তা অনেকটাই বিস্ময়কর।
বিড়ালছানাটিকে উদ্ধারে পরে এগিয়ে আসেন কারভিলের প্রাণী নিয়ন্ত্রণ বিভাগের কর্মকর্তা জেমস লি এবং স্থানীয় প্রাণী উদ্ধারকারী সংগঠন কারভিল পেটস অ্যালাইভের কর্মীরা। পিটারসন হেলথের কর্মীরাও উদ্ধারকাজে সহায়তা করেন। ইঞ্জিনের সংকীর্ণ অংশে আটকে থাকা ছানাটির কাছে পৌঁছাতে গাড়ির সামনের গ্রিল খুলে ফেলতে হয়। এরপর সতর্কতার সঙ্গে সেটিকে বের করে আনা হয়।
উদ্ধারের পর বিড়ালছানাটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রাণী উদ্ধারকারী দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কারভিল পেটস অ্যালাইভ জানিয়েছে, অপ্রত্যাশিত এই দীর্ঘ যাত্রার পর বিড়ালছানাটি এখন নিরাপদ ও উষ্ণ পরিবেশে রয়েছে। তাকে পর্যাপ্ত খাবারও দেওয়া হচ্ছে। নবজাতক হওয়ায় তার জন্য মাতৃদুগ্ধের ব্যবস্থা করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
শীতল আবহাওয়ায় কিংবা রাতে উষ্ণতার সন্ধানে বিড়ালসহ ছোট প্রাণী গাড়ির ইঞ্জিনের আশপাশে আশ্রয় নিতে পারে। তবে চলন্ত গাড়ির ইঞ্জিনে এমনভাবে আশ্রয় নেওয়া প্রাণীর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারভিলের এই ঘটনায় অবশ্য দীর্ঘ ও বিপজ্জনক যাত্রার পরও শেষ পর্যন্ত নিরাপদেই উদ্ধার হয়েছে ছোট্ট বিড়ালছানাটি। তথ্যসূত্র: ইউপিআই
সানা/ডিসি/আপ্র/৫/৯/২০২৬