ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্ক দ্বীপের কাছে পারস্য উপসাগরে একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম। স্থানীয় সময় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে খার্ক দ্বীপ থেকে প্রায় ছয় নটিক্যাল মাইল দূরে এ হামলা হয় বলে জানিয়েছে তারা। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে তাসনিম।
তাসনিমের খার্ক দ্বীপ প্রতিনিধি জানান, দ্বীপটির কাছাকাছি পারস্য উপসাগরের দিক থেকে কয়েক ঘণ্টা আগে কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে স্থানীয় সূত্রের বরাতে তাসনিম জানায়, ছোট একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কার মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খার্ক দ্বীপের উপকূলে নোঙর করার স্থানের কাছে থাকা ট্যাঙ্কারটিতে অন্তত চারটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় ট্যাঙ্কারটির নাবিকেরা জাহাজটি থেকে সরে যাচ্ছিলেন। ফলে হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে ট্যাঙ্কারটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে হামলাটি চালানো হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে দেখছে।
তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মধ্যাঞ্চলীয় কমান্ডের কাছেও হামলাটি তারা চালিয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের তেল রপ্তানিতে খার্ক দ্বীপের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটির রপ্তানিকৃত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের টার্মিনাল দিয়ে সরবরাহ করা হতো। ফলে খার্কে যেকোনো সামরিক হামলা ইরানের জ্বালানি রপ্তানি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর দেশটির জ্বালানি বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই সংঘাতের কারণে ইরানের অর্থনীতির ওপরও ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছিলেন, ইরানের তেলকেন্দ্র খার্ক দ্বীপ ‘চূর্ণবিচূর্ণ করে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে’। তবে এরপর খার্ক দ্বীপে এ ধরনের হামলা হয়েছে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সে সময় খার্কে হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ইরানি নেতারা।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে সমুদ্রপথে ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করার লক্ষ্যে দেশটির বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌবাহিনী অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।
খার্ক দ্বীপের কাছে ট্যাঙ্কারে হামলার দাবিটি সত্য হলে তা চলমান সংঘাতের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক উত্তেজনা হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে হামলার দায়, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া এখনো বাকি।
সানা/ডিসি/আপ্র/৫/৯/২০২৬