বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গের বেদনা যেন ছড়িয়ে পড়ল ঢাকার রাতেও। প্রিয় দল আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে পারেননি অসংখ্য সমর্থক। কেউ নির্বাক হয়ে বসে ছিলেন, কেউ চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। মেসির শেষ বিশ্বকাপের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মাঝেও নেমে আসে বিষণ্নতার আবহ।
রোববার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাতে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের মুহূর্তটি বড় পর্দায় দেখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল মাঠে জড়ো হয়েছিলেন হাজারো ফুটবলপ্রেমী। খেলা শুরুর আগেই আকাশি-নীল জার্সি, পতাকা আর মেসির ছবি হাতে সমর্থকদের উপস্থিতিতে উৎসবের রূপ নেয় পুরো এলাকা।
কিন্তু ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে সেই উৎসবের রঙ বদলে যায় বিষণ্নতায়। স্পেনের জয়সূচক গোলের পর একদিকে যখন লাল-হলুদ জার্সিধারী সমর্থকদের উল্লাস, অন্যদিকে তখন আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মুখে হতাশার ছাপ। অনেকেই মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন। কেউ কেউ আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কেঁদে ফেলেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের আধিপত্যে কিছুটা শঙ্কায় ছিলেন আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। তারপরও তাদের বিশ্বাস ছিল—মেসি আছেন, শেষ মুহূর্তে কিছু একটা ঘটবেই। বড় পর্দার সামনে বারবার উঠেছে ‘মেসি-মেসি’ স্লোগান। প্রতিটি আক্রমণে উচ্ছ্বাস, প্রতিটি বিপদে উৎকণ্ঠা—এভাবেই কেটেছে পুরো ম্যাচ।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত আর আসেনি। অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের ফেরান তোরেসের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় আর্জেন্টিনা। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্পেন সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে মাঠের একাংশ। আর অন্য পাশে নেমে আসে নীরবতা।
একজন আর্জেন্টিনা সমর্থক বলেন, ‘মেসির জন্যই আমরা এত রাত জেগে খেলা দেখেছি। চেয়েছিলাম শেষবারের মতো তাকে বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে দেখতে। কিন্তু ফুটবলে সব সময় স্বপ্ন পূরণ হয় না।’
আরেক সমর্থকের চোখে ছিল অশ্রু। তিনি বলেন, ‘হার-জিত খেলার অংশ। কিন্তু মেসির মতো একজন কিংবদন্তির শেষ বিশ্বকাপ এমনভাবে শেষ হবে, সেটা মেনে নেওয়া কঠিন।’
ঢাকার এই আবেগ অবশ্য নতুন নয়। বিশ্বকাপ এলেই আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে দেশের আনাচে-কানাচে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও মুহসীন হল মাঠে বড় পর্দায় খেলা দেখতে হাজারো সমর্থকের জমায়েত হয়ে ওঠে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ।
এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রাতভর গান, স্লোগান, পতাকা আর উচ্ছ্বাসে শুরু হয়েছিল ফাইনালের অপেক্ষা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্পেনের শিরোপা উৎসবের বিপরীতে ঢাকার আকাশি-নীল সমর্থকদের ভাগ্যে জুটেছে শুধু চোখের জল আর অপূর্ণ স্বপ্নের স্মৃতি।
মেসির বিশ্বকাপ অধ্যায়ের শেষ পৃষ্ঠায় যেমন লেখা হলো বেদনার গল্প, তেমনি ঢাকার হাজারো ভক্তের হৃদয়েও থেকে গেল এক আবেগঘন রাত—যেখানে পরাজিত হলেও ভালোবাসায় হারেনি আর্জেন্টিনা।
সানা/আপ্র/২০/৭/২০২৬