গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের দ্রুত সমাধান দাবি করে সরকারের প্রতি ক্ষোভ ও অসন্তোষ জানিয়েছেন নাগরিক আন্দোলনের নেতা মিজানুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান করুন। ১৭ বছরের দোহাই আর দিয়েন না। মানুষ আর কোনো অজুহাত শুনতে চায় না।’
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জুরাইনে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের দাবিতে এলাকাবাসীর আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
মিজানুর রহমান বলেন, ‘আপনারা ছয় মাস সময় চেয়েছিলেন। ছয় মাস পার হয়ে গেছে, কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারছেন না। এখন নানা অজুহাত দাঁড় করাচ্ছেন।’
সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা ভয় দেখাবেন না, দেখানোর চেষ্টাও করবেন না। মানুষ তিন বছর আগে ভয়কে জয় করেছে। এই এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জলাবদ্ধতায় ভুগছে। আপনারা এই সমস্যা সমাধানে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।’
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ওয়াসার পানি নিয়ে আন্দোলন করে আলোচনায় আসা মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন নাগরিক সমস্যায় ভুগছি। এ সমস্যা সমাধানের জন্য অফিসে গেলে কর্মকর্তারা আমাদের মানুষ মনে করেন না। আর জনপ্রতিনিধিরা ভোটের সময় এসে সব সমাধান করার আশ্বাস দেন। কিন্তু ভোটের পর আর কোনো খোঁজ থাকে না।’
তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের এটা উঠান বৈঠক মনে করতে পারেন। কিন্তু আমরা আপনাদের কার্যক্রম এক মাস দেখব। আমাদের সমস্যার সমাধান না হলে পরের পরিস্থিতির জন্য জনগণকে দায়ী করতে পারবেন না। আমরা এলাকার জনগণকে নিয়ে এই এলাকার সমস্ত মহাসড়ক বন্ধ করে দেবো। রেলপথও বন্ধ করে দেওয়া হবে।’
মিজানুর রহমান আরো বলেন, ‘আমাদের দাবি কীভাবে আদায় করতে হয়, আমরা দেখিয়ে দেবো। আমাদের তেমন পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাবেন না।’
সরকারের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা শুনছি আপনারা বোয়িং কিনছেন। দফায় দফায় চুক্তি করছেন। আমি বলবো, আগে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করুন। বোয়িং পরে কিনুন।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমরা মনে করছি, বিদেশিদের খুশি করতে তাদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে ইচ্ছা করেই সংকট তৈরি করছেন।’
মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিগত সময়ে সংকট থাকলেও এত মারাত্মক হয়নি। আপনি আসার পর কেন এত বড় সংকট হবে? আমরা আমাদের দাবি বৃহত্তর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আদায় করবো।’
‘শ্যামপুর-কদমতলীর বিক্ষুব্ধ জনগণ’ ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন মাহদী। এতে স্থানীয় বাসিন্দা সোহাগ রায়, আলতাব হোসেন, সাগর, মামুন, বাসের আলীসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, মানুষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর অনেক আস্থা রেখেছিল। কিন্তু পরিস্থিতি এমন হয়ে যাচ্ছে যে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে—এমন লক্ষণই তাঁরা বুঝতে পারছেন।
তাঁরা আরো বলেন, ‘এই এলাকার মানুষ আন্দোলন করতে জানে। আপনাদের এক এমপির কথা নিশ্চয়ই মনে আছে। মানুষ বিক্ষুব্ধ হলে এবার কিন্তু সেরকম পরিস্থিতি হতে পারে। তখন এলাকার লোকজনকে দোষ দিতে পারবেন না।’
সমাবেশ শেষে একটি মশাল মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি রাজধানীর জুরাইনের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সানা/আপ্র/৪/৯/২০২৬