বাসায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার দাবি করে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকারকে নিয়ে কটূক্তি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের পর গ্রেফতার হওয়া সিফাত আব্দুল্লাহকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুর মহানগর আদালতে সিফাতকে হাজির করা হলে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের গাছা থানা এলাকা থেকে তাঁকে আটক করে গাজীপুর মহানগর পুলিশ। রাত ৯টার দিকে তাঁকে থানায় নেওয়া হয়।
সিফাত আব্দুল্লাহর বয়স ২৫ বছর। তিনি গাজীপুর মহানগরের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের টিনের মসজিদ এলাকার সিকান্দর আলীর ছেলে। তিনি রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, সিফাত বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও লেখালেখি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার তিনি এক মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করেন। ওই ভিডিওতে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশে গালিগালাজ করতে দেখা যায় তাঁকে।
ভিডিওতে সিফাত দাবি করেন, চলতি মাসে তাঁর বাসায় ৪ হাজার টাকা এবং আগের মাসে ৫ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে। তাঁর দাবি, স্বাভাবিক ব্যবহারের তুলনায় এই বিল অতিরিক্ত। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি ভিডিওটি প্রকাশ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ তাঁকে আটক করে।
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগে সিফাত আব্দুল্লাহকে আটক করা হয়। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হলে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে তাঁর রিমান্ড চাওয়া হতে পারে।
গ্রেফতার নিয়ে তাসনিম জারার প্রশ্ন: সিফাতের গ্রেফতার ও তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। শুক্রবার বিকাল ৫টা ৩১ মিনিটে নিজের যাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় দেওয়া এক পোস্টে তিনি সিফাতের ভাষা ভদ্র ছিল না বলে উল্লেখ করেন। তবে তাঁর প্রশ্ন, ‘সিফাতকে অভদ্রতার জন্য গ্রেফতার করা হয়নি। মামলা দেওয়া হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। তাহলে গালি দেওয়া কি সন্ত্রাস?’
তাসনিম জারা বলেন, সিফাতের গ্রেফতারের বিরোধিতা করে যাঁরা লিখছেন, তাঁদের অনেকের মন্তব্যেও গালিগালাজ দেখা যাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, এর মাধ্যমে ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতার বাইরে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের মানদণ্ডের বিষয়টি সামনে আসছে।
তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা একটা তালিকা করে দিন। কী কী লিখলে, কী কী আঁকলে, বিলের কাগজ হাতে নিয়ে কী কী বললে রাত সাড়ে আটটায় দরজায় পুলিশ আসবে না। লিখে দিন। আমরা মেনে চলব।’
তাসনিম জারা সিফাতকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে কথা বলার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যায়—এমন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ধারাগুলো সংশোধনের আহ্বান জানান তিনি।
সানা/আপ্র/৪/৯/২০২৬