কথাসাহিত্যিক মঞ্জু সরকারের ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় গ্রন্থোৎসব। মঙ্গলবারের (১ সেপ্টেম্বর) এ আয়োজনে তাঁর নতুন দুটি বই—গল্প সংকলন ‘শখের বাগানে সাপ’ ও উপন্যাস ‘নিয়ন্ত্রক’—নিয়ে আলোচনা করেন লেখক, গবেষক, প্রকাশক, শিক্ষাবিদ ও চলচ্চিত্রকাররা।
প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘অনুপ্রাণন’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিজের লেখক হয়ে ওঠার দীর্ঘ সংগ্রামের কথা তুলে ধরে মঞ্জু সরকার বলেন, ‘আঠারো কোটি মানুষের দেশে মরে যাওয়াটা খুব সহজ। মানুষের অধিকার কিংবা মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকা কঠিন। আর লেখক পরিচয়ে বেঁচে থাকা তো আরো কঠিন। মুক্তিযুদ্ধের পর সিদ্ধান্ত নিলোাম—অন্য কিছু নয়, লেখক হবো। লেখক হওয়ার স্বপ্ন-সংগ্রাম স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকেই চলছে। আমৃত্যু চলবে।’
গবেষক ও প্রকাশক মফিদুল হক মঞ্জু সরকারের কথাসাহিত্যের জীবনঘনিষ্ঠতার দিকটি তুলে ধরেন। তাঁর মতে, লেখকের গল্পে মানুষের জীবন ও সমাজের বাস্তবতা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
‘নিয়ন্ত্রক’ উপন্যাস নিয়ে আলোচনায় সৈয়দ মুফাদ আহমেদ বলেন, উপন্যাসটির চরিত্রগুলোর আচরণ তাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ব্যক্তিগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে এটি সমাজকে দেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে।
তিনি মঞ্জু সরকারের গল্প সংকলন ‘শখের বাগানে সাপ’-এর গল্পগুলোতেও সমকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
চলচ্চিত্রকার গিয়াসউদ্দিন সেলিম মঞ্জু সরকারের ‘অবগুণ্ঠন’ উপন্যাস অবলম্বনে চ্যানেল আইয়ের জন্য সিরিজ নির্মাণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
শিক্ষাবিদ ও অনুবাদক খালিকুজ্জামান ইলিয়াস অনুষ্ঠানে মঞ্জু সরকারের কাছে মওলানা ভাসানীকে নিয়ে একটি উপন্যাস লেখার প্রতিশ্রুতি চান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সম্পাদক ও প্রকাশক আবু মোহাম্মদ ইউসুফ। কথাসাহিত্যিক মনি হায়দার অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। সংগীত পরিচালনা করেন অনুপম কুমার পাল।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রকাশক-সম্পাদক আবু মোহাম্মদ ইউসুফ কথাসাহিত্যিক মঞ্জু সরকারের হাতে তাঁর পোর্ট্রেট তুলে দেন।
সানা/আপ্র/৫/৯/২০২৬