হার্ট বা হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে সচেতনতা জরুরি। তবে হৃদ্যন্ত্র ভালো আছে কি না, তা শুধু শরীরের কিছু লক্ষণ দেখে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। কিছু লক্ষণ অবশ্য হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির সামগ্রিক সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে।
বিশেষ করে হঠাৎ বা ক্রমাগত কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। বুকে ব্যথা, অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা কিংবা আগের তুলনায় শারীরিক সক্ষমতা কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট ছাড়াই সিঁড়ি ভাঙতে পারেন: দ্রুত হাঁটা কিংবা কয়েক তলা সিঁড়ি ওঠার সময় অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট না হলে তা সাধারণত হৃদ্যন্ত্র, ফুসফুস ও পেশির সমন্বিত কার্যক্ষমতার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত। অবশ্য কঠোর ব্যায়ামের পর শ্বাসকষ্ট হওয়া স্বাভাবিক।
তবে আগে যে কাজগুলো সহজেই করতে পারতেন, সেগুলো করার সময় এখন যদি অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট হয়, তা অবহেলা করা ঠিক নয়। শারীরিক অক্ষমতা, রক্তস্বল্পতা, ফুসফুসের সমস্যা ও হৃদ্রোগসহ বিভিন্ন কারণে শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
ব্যায়ামের পর হৃদ্স্পন্দন দ্রুত স্বাভাবিক হয়: ব্যায়ামের সময় পেশির বেশি অক্সিজেনের প্রয়োজন হওয়ায় হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যায়। ব্যায়াম থামানোর পর শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার সঙ্গে সঙ্গে হৃদ্স্পন্দনও ধীরে ধীরে কমে আসা উচিত।
কত দ্রুত হৃদ্স্পন্দন স্বাভাবিক হবে, তা বয়স, শারীরিক সক্ষমতা, ব্যায়ামের তীব্রতা ও কিছু ওষুধ ব্যবহারের মতো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়ামের পর হৃদ্স্পন্দন ধীরে স্বাভাবিক হওয়া কখনো কখনো কম কার্ডিওভাসকুলার সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
তাই প্রতিবার নাড়ি মাপার প্রয়োজন নেই। বরং ব্যায়ামের পর শরীর কত দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে, সেদিকে নজর রাখা যেতে পারে।
অস্বাভাবিক ক্লান্তি ছাড়াই সক্রিয় থাকতে পারেন: সুস্থ হৃদ্যন্ত্র কর্মরত পেশিতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছে দিতে সহায়তা করে। তাই অস্বাভাবিক ক্লান্তি ছাড়াই নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা, ব্যায়াম কিংবা দৈনন্দিন কাজ করতে পারা সাধারণত ইতিবাচক লক্ষণ।
অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি থাকা কিংবা হঠাৎ ব্যায়াম করার সক্ষমতা কমে যাওয়া শুধু ব্যস্ততা বা ঘুমের ঘাটতির কারণে হচ্ছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। হৃদ্রোগের ক্ষেত্রে সব সময় স্পষ্ট বুকে ব্যথা নাও থাকতে পারে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা ব্যায়ামের সক্ষমতা কমে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হতে পারে।
নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস বজায় রাখতে পারেন: নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখার অন্যতম কার্যকর উপায়। দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা কিংবা হৃদ্স্পন্দন বাড়ায়—এমন অন্যান্য ব্যায়ামও উপকারী।
প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কর্মকাণ্ড অথবা ৭৫ মিনিট বেশি তীব্রতার কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য রাখা উচিত। এর পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম করাও উপকারী।
সুস্থ থাকার জন্য ক্রীড়াবিদ হওয়ার প্রয়োজন নেই। দীর্ঘস্থায়ী কোনো উপসর্গ ছাড়াই নিয়মিত সক্রিয় জীবনযাপন করতে পারা সামগ্রিক শারীরিক সক্ষমতার একটি ভালো ইঙ্গিত।
রক্তচাপ স্বাস্থ্যকর সীমায় থাকে: শুধু শরীরের অনুভূতি দিয়ে উচ্চ রক্তচাপ বোঝা যায় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। এ কারণে নিয়মিত রক্তচাপ মাপা হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির স্বাস্থ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।
হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালি সুস্থ রাখতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রক্তচাপের মাত্রা বারবার বেশি পাওয়া গেলে নিজের শারীরিক অনুভূতির ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
তবে এসব লক্ষণ থাকলেই হৃদ্যন্ত্র সম্পূর্ণ সুস্থ—এমন নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। হৃদ্রোগের ঝুঁকি নির্ণয়ে বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, ধূমপানসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করতে হয়। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
সানা/আপ্র/৫/৯/২০২৬