বৃষ্টির পানি আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এ পানি সরাসরি পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় চলে যায়, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, বিষয়টি শুধু ধর্মীয় বিধানের নয়; বরং জনকল্যাণ, পরিবেশ ও প্রকৌশলগত বাস্তবতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক একটি ইসলামি ফতোয়া কেন্দ্রের এক প্রশ্নের জবাবে ফুকাহারা এ মত প্রকাশ করেন।
প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়, পানিসংকট থাকা সত্ত্বেও অনেক জায়গায় ব্যক্তি ও সরকারি উদ্যোগে বৃষ্টির পানি সরাসরি পয়ঃনিষ্কাশন লাইনে যুক্ত করা হচ্ছে। অথচ এ পানি সংরক্ষণ করে নদী-খাল পুনরুজ্জীবন, কৃষিকাজ কিংবা ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনর্ভরণে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে যেমন প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় রোধ হবে, তেমনি পয়ঃশোধনাগারের ওপর অতিরিক্ত চাপও কমবে।
জবাবে ফতোয়া কেন্দ্র জানায়, এটি এমন কোনো বিষয় নয়, যার সিদ্ধান্ত শুধু আলেমদের দেওয়া উচিত। মানুষের পার্থিব জীবন, অবকাঠামো ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রকৌশলী, পরিবেশবিদ এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামতই মুখ্য হওয়া উচিত।
এ প্রসঙ্গে হজরত আয়েশা (রা.) ও হজরত আনাস (রা.) বর্ণিত একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়। খেজুরগাছের কৃত্রিম পরাগায়ন বিষয়ে সাহাবিদের প্রশ্নের জবাবে মহানবী (সা.) বলেছিলেন, ‘তোমরা তোমাদের দুনিয়াবি বিষয় সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত।’ (সহিহ মুসলিম)
ফতোয়ায় আরো বলা হয়, ইসলাম সর্বদা জনকল্যাণকর ও উপকারী কাজকে উৎসাহিত করে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর কাছে দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম ও অধিক প্রিয়। তবে উভয়ের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে। যা তোমার উপকারে আসে, তা অর্জনের চেষ্টা করো, আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করো এবং অলস হয়ো না।’ (সহিহ মুসলিম)
আলেমদের মতে, এই শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য। বৃষ্টির পানির মতো মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে আধুনিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও বিশ্বের সফল অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো প্রয়োজন। কারণ ইসলাম জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে সবসময় উৎসাহিত করে।
সূত্র: ইসলাম ওয়েব
এসি/আপ্র/১৩/০৭/২০২৬