থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৯ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬০ জনের বেশি। আগুন লাগার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, রোববার (১২ জুলাই) রাত ১১টার দিকে ‘রং বিয়ার না লাত ফ্রাও’ নামের একটি বারে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আগুন নিয়ন্ত্রণের পর ঘটনাস্থলে সারিবদ্ধভাবে রাখা মরদেহের ব্যাগ দেখা যায়। বারের ভেতরের আসবাবপত্র, দেয়াল ও ছাদ আগুনে পুড়ে যায়। ভবনের ছাদের কিছু অংশও ধসে পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বারটির ভেতর থেকে দাউদাউ করে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। আতঙ্কিত মানুষ প্রাণ বাঁচাতে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। কেউ চিৎকার করছেন, কেউ হুড়োহুড়িতে পড়ে যাচ্ছেন।
রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চানভিরাকুল। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ২৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আগুন লাগার সময় বারে গান পরিবেশন করছিলেন এমন এক শিল্পীর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। ওই শিল্পীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে বৈদ্যুতিক কাট-আউট সুইচে আগুন লাগে। এরপর দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং বিস্ফোরণের মতো শব্দ হলে আতঙ্কে সবাই বের হওয়ার চেষ্টা করেন।
ওই শিল্পী আরো জানান, অনেকেই প্রধান ফটক দিয়ে বের হতে না পেরে ভবনের পেছনের দিকে চলে যান এবং ধোঁয়া থেকে বাঁচতে টয়লেটে আশ্রয় নেন। পরে সেখান থেকেই অধিকাংশ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ব্যাংককের গভর্নর চাচার্ত সিত্তিপুন্ট বলেন, বারের অভ্যন্তরে দাহ্য উপকরণ দিয়ে সাজসজ্জা করায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক তদন্তে আরো জানা গেছে, কিছু টেবিল জরুরি নির্গমনপথ আংশিকভাবে আটকে রেখেছিল। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।
সূত্র: বিবিসি
এসি/আপ্র/১৩/০৭/২০২৬