রাজধানী ঢাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, যা গত ১৭ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে ২০০৯ সালে একদিনে সর্বোচ্চ ৩৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল।
সোমবার (১৩ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেন, বর্ষাকালে এমন বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক হলেও এবার এর তীব্রতা তুলনামূলক বেশি।
গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৬০ মিলিমিটার, আমবাগানে ১৪০ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১১৩ মিলিমিটার এবং ফরিদপুরে ১১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
১৩ জুলাই রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের অধিকাংশ স্থানে এবং ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় দেশের কয়েকটি স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
১৪ জুলাই রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অনেক স্থানে এবং দেশের অন্যান্য বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন রংপুর ও রাজশাহীর কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
এ ছাড়া ১৫ ও ১৬ জুলাই খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক স্থানে এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের কিছু এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এদিকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারে ২৮ জন, চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙ্গামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ৩৯ জন।
এসি/আপ্র/১৩/০৭/২০২৬