ব্যস্ত জীবনে অনেকেই এমন সকালের নাস্তা খোঁজেন, যা স্বাস্থ্যকর, পুষ্টিকর এবং দ্রুত প্রস্তুত করা যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘ওভারনাইট ওটস’। আগের রাতে দুধ বা টক দইয়ে ওটস ভিজিয়ে রেখে সকালে ফল, বাদাম ও বিভিন্ন বীজ মিশিয়ে এটি খাওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক উপায়ে তৈরি করলে ওভারনাইট ওটস হতে পারে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পুষ্টিকর সকালের খাবার। নিয়মিত খেলে হজমশক্তি উন্নত হওয়া, দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকা, ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখাসহ নানা উপকার পাওয়া যেতে পারে।
ওটসে থাকা দ্রবণীয় আঁশ, বিশেষ করে বিটা-গ্লুকান, অন্ত্রের কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে এবং উপকারী অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটিয়ে হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করতে ভূমিকা রাখে।
ওটস ধীরে ধীরে হজম হওয়ায় দীর্ঘ সময় তৃপ্তি অনুভূত হয়। ফলে অকারণে বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ কারণে এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগ্রহীদের জন্য কার্যকর একটি খাদ্য হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, ওটস নিজে ওজন কমায় না। এর সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি, মধু, মিষ্টি সিরাপ, চকলেট স্প্রেড বা বেশি পরিমাণ শুকনো ফল মেশালে ক্যালোরি বেড়ে যায়, যা উল্টো ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও ওটস উপকারী। ধীরে হজম হওয়ার কারণে খাবারের পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায় না। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্যও এটি ভালো নাশতা হতে পারে। তবে এতে অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি উপাদান না মেশানোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
পুষ্টিবিদদের মতে, ভিজিয়ে রাখা ও রান্না করা—দুই ধরনের ওটসের পুষ্টিগুণ প্রায় একই। তবে রাতে ভিজিয়ে রাখলে ওটস নরম হয়ে যায়, ফলে অনেকের ক্ষেত্রে সহজে হজম হয়। এ ছাড়া দীর্ঘ সময় ভিজিয়ে রাখলে এতে থাকা ফাইটিক অ্যাসিড কিছুটা কমে, যা শরীরে খনিজ উপাদান শোষণে সহায়ক হতে পারে।
ওভারনাইট ওটস তৈরিতে রোলড ওটস ব্যবহার করাই ভালো। এতে দুধ বা চিনি ছাড়া টক দই মিশিয়ে রাতে ভিজিয়ে রেখে সকালে কলা, আপেল, বেরি বা আমের মতো তাজা ফল, কাঠবাদাম, আখরোট, চিয়া সিড, ফ্ল্যাক্স সিড কিংবা কুমড়ার বীজ যোগ করলে পুষ্টিগুণ আরও বাড়ে। স্বাদ বাড়াতে সামান্য দারুচিনি গুঁড়া ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরো বলেন, ওভারনাইট ওটস স্বাস্থ্যকর হলেও প্রতিদিন শুধু এটিই খেয়ে শরীরের সব পুষ্টি চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। তাই খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি, ফল, ডাল, ডিম, মাছ ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখতে হবে। সুষম ও বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাসই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ওয়েবএমডি
এসি/আপ্র/১৩/০৭/২০২৬