ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় সাড়ে চার বছরের মধ্যে রাজধানী কিইভে সবচেয়ে বড় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রোববার (১৯ জুলাই) ভোররাতে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চালানো এ হামলায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
কিইভের স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রুশ হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের জাতীয় পুলিশ জানিয়েছে, হতাহতরা রাজধানীর ছয়টি জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
হামলায় কিইভের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবন, দপ্তর, শিল্প এলাকা, ছাত্রাবাস ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের পর নগরীর বিভিন্ন স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধারকর্মীরা সভিয়াতোশিনস্কি এলাকার একটি জ্বলন্ত ভবন থেকে চারজনকে উদ্ধার করেন। শেভচেনকিভস্কি এলাকায় একটি তিনতলা ভবন থেকেও বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। একটি কার্যালয় ভবনে লাগা আগুনও নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানান, কিইভ ছাড়াও রুশ হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে মধ্যাঞ্চলীয় শহর দনিপ্রোপেত্রভস্ক। সেখানে রুশ ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া জাপোরিজিয়া অঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে রুশ ড্রোন আঘাত হানলে ট্রেনের চালক নিহত হন এবং আগুন ধরে যায়।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার ছোড়া ৪১টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি তারা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে কিইভের কর্মকর্তারা বলছেন, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ইউক্রেন প্রধানত যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে। বর্তমানে এ ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি থাকায় প্রায় প্রতিদিনের হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
চলতি জুলাই মাসে কিইভে রাশিয়া বেশ কয়েকটি বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে অন্তত সাতবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে ইউক্রেন জানিয়েছে।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির পাশাপাশি ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মন্ত্রিসভায় রদবদলের অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইখাইলো ফেদোরভকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটির বিভিন্ন মহলে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের কেউ কেউ বলছেন, যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া জেলেনস্কির বড় ভুল।
অন্যদিকে ইউক্রেন দাবি করেছে, তাদের বাহিনী কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে তিনি প্রস্তুত। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে হবে এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া কত সময় নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার মধ্যে কিইভে সর্বশেষ এ বড় ধরনের হামলা সংঘাতের তীব্রতা আরো বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সানা/আপ্র/১৯/৭/২০২৬