ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতাকর্মী শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মিছিল বের করার চেষ্টা করেছেন। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিলটি এগিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে পাঁচটি ককটেল।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাউদ হোসেন জানান, বেলা পৌনে ১২টার দিকে গুলশান-১-এর ভোলা মসজিদের সামনে থেকে মিছিলটি বের করার চেষ্টা করা হয়। সেখানে পুলিশ উপস্থিত হয়ে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এ সময় মিছিলকারীরা দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।
পুলিশের সঙ্গে মিছিলকারীদের এই মুখোমুখি অবস্থানের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাবার বুলেট ছোড়া হয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাউদ হোসেন বলেন, পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়েছে। পরে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মিছিলটির দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওতে কয়েকশ মানুষকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে। মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ছে-এমন দৃশ্যও রয়েছে ভিডিওতে।
রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ এই ঘটনাটি ঘটে রাজধানীর গুলশান এলাকায়, যেখানে শুক্রবার দুপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এমন প্রকাশ্য মিছিলের মুখোমুখি হয় পুলিশ। মিছিল থেকে স্লোগান, পুলিশের বাধা, ককটেল বিস্ফোরণ এবং পরে রাবার বুলেট নিক্ষেপের ঘটনায় অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিলটি গুলশান-১-এর ভোলা মসজিদের সামনে থেকে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করার সময় ককটেল বিস্ফোরণের পর পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে ককটেল উদ্ধারের পাশাপাশি দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনার তাৎক্ষণিক পর্যায়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় বলে জানান গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তবে মিছিলকারীদের সংখ্যা ছিল কয়েকশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতেও বড় একটি জমায়েতের উপস্থিতি দেখা গেছে।
এদিকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মিছিলকারীদের মধ্যে বা অন্য কারও হতাহতের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। বিস্ফোরণে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের পরও আরও পাঁচটি ককটেল ঘটনাস্থলে পাওয়া যাওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে এসব ককটেল কোথা থেকে এসেছে বা কারা সেগুলো বহন করছিল, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাউদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার দুপুরের এই ঘটনায় রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য মিছিল এবং পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘাতের চিত্র সামনে এসেছে। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে মিছিলটি কী উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছিল, এতে কারা নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং মিছিলের আগে বা পরে সংশ্লিষ্টদের কোনো কর্মসূচি ছিল কি না-এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে গ্রেপ্তার দুজনের পরিচয়ও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।
ঘটনার পর গুলশান এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর থাকে। ককটেল বিস্ফোরণ ও রাবার বুলেট নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে শেষ হয় মিছিলটি। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সানা/আপ্র/১১/৯/২০২৬