১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ কর্মসূচিকে ‘জ্বালানির অপচয়’ ও ‘জনগণের ভোগান্তির’ কারণ হিসেবে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স পরিদর্শন ও স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, জ্বালানি সংকটের সময়ে লংমার্চের নামে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ব্যয় করে জাতীয় সম্পদের অপচয় করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মসূচি অযথা জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করবে।
তিনি বলেন, লংমার্চের জন্য প্রায় এক লাখ লিটার জ্বালানি তেল ব্যয় হবে বলে হিসাব করা হচ্ছে। অথচ এমন একটি সময়ে এই কর্মসূচি হচ্ছে, যখন দেশে জ্বালানি সংকট চলছে। প্রথমদিকে জ্বালানি সংকটের কারণে লংমার্চের কথা বলা হলেও পরে গণরায় বাস্তবায়নের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সেই সংস্কার বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এ জন্য সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত কমিটিতে বিরোধীদলকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
‘দ্বিতীয় শপথ’ প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী শপথ নেওয়ার পর যে অতিরিক্ত শপথের কাগজ দেওয়া হয়েছিল, সেটিকে তিনি অসাংবিধানিক ও অবৈধ বলে মনে করেন। এ বিষয়ে আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন মতামত থাকলেও সেই বিতর্কে তিনি যেতে চান না।
তিনি আরো বলেন, সরকার হিসেবে সফল বা ব্যর্থতার মূল্যায়নের পাশাপাশি গত ছয় মাসে বিরোধীদল হিসেবে তারা কতটা সফল হয়েছে, সেটিও জনগণের পর্যালোচনা করা উচিত।
পরে প্রতিমন্ত্রী খোকসা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর খোকসা জানিপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় যোগ দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, খোকসা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন খান ও খোকসা পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিপন হোসেনসহ অনেকে।
সানা/আপ্র/৬/৯/২০২৬