নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেটের একটি হোটেলে টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ নতুন একটি শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি কাঠামো গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স প্রায় ছয় মাস হলেও প্রথম দিন থেকেই এমন একটি নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যাতে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসম্পর্কে ভারসাম্য বজায় থাকে।
তিনি বলেন, বেইজিং, ওয়াশিংটন, মধ্যপ্রাচ্য, সৌদি আরব ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ শক্তিশালী ও কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই বেইজিং, ওয়াশিংটন ও রিয়াদসহ গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে কার্যকর কর্মসম্পর্ক তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বর্তমান সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ও দৃশ্যমানতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্বও বহুগুণ বেড়েছে।
তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের সঙ্গে ‘টু-প্লাস-টু’ কাঠামোয় আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে, যা দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি চিঠি এসেছে। ওই চিঠিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে ট্রাম্প গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানান তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, চিঠিতে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ একটি উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সফরের দিন-তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি; এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের যত সমস্যা বা চ্যালেঞ্জই থাকুক, আলাপ-আলোচনার দরজা সব সময় খোলা থাকবে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কার্যকর কর্মসম্পর্ক প্রয়োজন। তবে দুই দেশের সম্পর্কে চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী পক্ষ এখন মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করছে। এতে বাংলাদেশের সম্পৃক্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।
বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ অত্যন্ত সফলভাবে অবদান রেখে চলেছে। শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের রয়েছে বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষ ও সুশৃঙ্খল সশস্ত্র বাহিনী। ফলে এ বাহিনীর প্রতি বিশ্বের আগ্রহ থাকা স্বাভাবিক।
তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ ভূমিকা রাখতে পারলে মুসলিম বিশ্বের যেকোনো শান্তি উদ্যোগেও ভূমিকা রাখতে পারবে। এ বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে চলছে। জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া প্রয়োজন, বাংলাদেশ সেখানেই যাবে।
পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান অস্থির ও পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি জোটে থাকলে অন্য জোটের সঙ্গে কাজ করা যাবে না—বিষয়টি এমন নয়। সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হলে পররাষ্ট্রনীতি হতে হবে নমনীয় ও গতিশীল।
তিনি বলেন, কোনো ধরনের একগুঁয়েমি বা অনমনীয়তা দিয়ে জাতীয় স্বার্থ অর্জন করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। জনগণের কল্যাণ ও দেশের সার্বভৌম জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের প্রয়োজন অনুযায়ী বোয়িং কেনা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনে এয়ারবাসও কেনা হবে। কোনো পক্ষ বাংলাদেশকে এ বিষয়ে কিছু চাপিয়ে দিচ্ছে না; চাহিদা রয়েছে বলেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে।
মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানি প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ আমলের একটি সিন্ডিকেটের কারণে এ ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান সরকার সেই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে। এখন ধাপে ধাপে শ্রমশক্তি রপ্তানি করা হবে।
এ সময় সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।
সানা/আপ্র/৫/৯/২০২৬