নিখোঁজের তিন দিন পর ঢাকার লালবাগে বন্ধুর বাসার পেছন থেকে শেখ ওয়াসিম রনি নামে এক ব্যবসায়ীর মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে বিসি দাস স্ট্রিটের পাঁচতলা একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোরে নিচতলার পাশের মাটি খুঁড়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পরে লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় রনির বন্ধু মাসুমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। যে স্থান থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানে মাসুমের একটি কারখানা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার তালেবুর রহমান জানান, শেখ ওয়াসিম রনি নিখোঁজ হওয়ার পর গত ৮ সেপ্টেম্বর তাঁর স্বজনেরা লালবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ওই সাধারণ ডায়েরির তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ রনির বন্ধু মাসুমকে আটক করে।
পরে মাসুমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বাসার পেছনে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর দেখানো স্থানেই মাটিতে বালুচাপা দেওয়া অবস্থায় রনির লাশ পাওয়া যায়।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বিসি দাস স্ট্রিটের পাঁচতলা ভবনটিতে পুলিশ অভিযান শুরু করে। এরপর শুক্রবার ভোরে ভবনের নিচতলার পাশের একটি স্থানে মাটি খুঁড়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার শেষে লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ বলছে, লাশ উদ্ধারের স্থানটি মাসুমের বাসার পেছনে এবং সেখানে তাঁর একটি কারখানা রয়েছে। ফলে একজন ব্যবসায়ী নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর বন্ধুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাঁর দেখানো স্থান থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ঘটনাটি হত্যাকাণ্ডের সন্দেহকে সামনে এনেছে।
তবে রনিকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, হত্যার কারণ কী এবং ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না-এসব বিষয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। লাশের ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
স্বজনদের করা সাধারণ ডায়েরির তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশের হাতে মাসুম আটক হওয়ার পর তাঁর দেওয়া তথ্যেই লাশের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এখন রনির নিখোঁজ হওয়ার সময় থেকে লাশ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত তাঁর চলাফেরা, মাসুমের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি তদন্তের আওতায় আসবে।
রনির নিখোঁজ হওয়ার তিন দিনের মধ্যে তাঁর লাশ বন্ধুর বাসার পেছন থেকে উদ্ধারের ঘটনায় লালবাগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মাটির নিচে লাশটি চাপা দিয়ে রাখার বিষয়টি ঘটনাটিকে আরো রহস্যজনক করে তুলেছে।
পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার তালেবুর রহমান বলেন, রনির নিখোঁজের ঘটনায় গত ৮ সেপ্টেম্বর তাঁর স্বজনেরা লালবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। সেই সাধারণ ডায়েরির তদন্তে নেমেই পুলিশ রনির বন্ধু মাসুমকে আটক করে। পরে তাঁর দেখানো মতে বাসার পেছন থেকে মাটিতে বালুচাপা দেওয়া অবস্থায় রনির লাশ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার মাসুমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রনির মৃত্যুর কারণ, হত্যার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য এবং ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
সানা/আপ্র/১১/৯/২০২৬