বিশ্বকাপের ফাইনালের প্রথমার্ধে বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ তৈরিতে স্পষ্ট আধিপত্য দেখিয়েছে স্পেন। তবে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের দুর্দান্ত নৈপুণ্য ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। ফলে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ের প্রথম ৪৫ মিনিট শেষ হয়েছে গোলশূন্য সমতায়।
শুরু থেকেই নিজেদের স্বাভাবিক ছোট ছোট পাসের ফুটবলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্পেন। পঞ্চম মিনিটেই দানি ওলমোর পাস থেকে বিপজ্জনক জায়গায় বল পেয়েছিলেন লামিন ইয়ামাল। কিন্তু তার শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। কয়েক সেকেন্ড পর আরেকটি সুযোগ পেলেও স্প্যানিশ এই ফরোয়ার্ডকে সফল হতে দেয়নি আর্জেন্টিনার রক্ষণ।
অন্যদিকে প্রতি আক্রমণে লিওনেল মেসিকে খুঁজলেও তাকে কার্যকর হওয়ার সুযোগ দেননি স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন ও রক্ষণভাগ। ১৭তম মিনিটে অ্যালেক্স বায়েনার ফাউলে পাওয়া মুক্তকিকও কাজে লাগাতে পারেনি আর্জেন্টিনা।
প্রথম হাইড্রেশন বিরতির আগ পর্যন্ত বলের দখলে ছিল স্পেনের সুস্পষ্ট আধিপত্য। বিরতির সময় পর্যন্ত স্পেনের দখলে ছিল ৬০ শতাংশেরও বেশি বল, যেখানে আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে উল্লেখযোগ্য কোনো আক্রমণই গড়ে তুলতে পারেনি।
৩২তম মিনিটের পর পাউ কুবার্সির দুর্বল ব্যাকপাসে কিছুটা চাপে পড়ে স্পেন। সুযোগ বুঝে মেসি বলের দিকে ছুটে গেলেও দ্রুত এগিয়ে এসে বিপদমুক্ত করেন উনাই সিমন।
৩৯তম মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবাল আরেকটি দারুণ সুযোগ পেলেও আবারও বাধা হয়ে দাঁড়ান এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ডাইভ দিয়ে নিশ্চিত গোল রুখে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক।
৪১তম মিনিটে ওইয়ারসাবালকে পেছন থেকে ফাউল করে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন আর্জেন্টিনার সেন্টারব্যাক লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। কিছুক্ষণ পর চোটের কারণে তাকে তুলে নিয়ে অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দিকে মাঠে নামান কোচ লিওনেল স্কালোনি।
প্রথমার্ধের পরিসংখ্যানও স্পেনের শ্রেষ্ঠত্বই তুলে ধরেছে। বলের দখল ছিল স্পেনের ৬৫ শতাংশ, আর্জেন্টিনার ৩৫ শতাংশ। স্পেন মোট ৩৬৩টি পাস সম্পন্ন করে, যেখানে আর্জেন্টিনার পাস ছিল ২০০টি। গোলের উদ্দেশে স্পেন তিনটি শট নিয়ে দুটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হলেও আর্জেন্টিনা প্রথমার্ধে একটি শটও নিতে পারেনি, এমনকি প্রতিপক্ষের দণ্ডক্ষেত্রেও কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়।
প্রথম ৪৫ মিনিটে মোট ১৬টি ফাউল হয়েছে। এর মধ্যে আর্জেন্টিনা করেছে ৯টি এবং স্পেন ৭টি। কর্নার পেয়েছে শুধু স্পেন—দুটি, আর্জেন্টিনা পায়নি একটিও।
এদিকে এই ম্যাচে মাঠে নেমেই ব্যক্তিগত তিনটি অনন্য কীর্তি গড়েছেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সে তিনি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড খেলোয়াড় হয়েছেন। এছাড়া তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে নিজের দেশকে অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম ফুটবলারও এখন তিনি। একই সঙ্গে ব্রাজিলের কাফুর পর ইতিহাসের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার বিরল অর্জনও নিজের করে নিয়েছেন।
সানা/আপ্র/২০/৭/২০২৬