ভেনেজুয়েলায় গত মাসে আঘাত হানা ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫ হাজার ১১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ভূমিকম্পের ২৪ দিন পরও ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা আরো বাড়ছে।
সরকারি পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে আল আরাবিয়া জানিয়েছে, শনিবার (১৮ জুলাই) পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ১১৯ জনে পৌঁছেছে। এর আগে শুক্রবারই প্রাণহানির সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছিল।
গত ২৪ জুন স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে রাজধানী কারাকাসসহ দেশটির উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভূমিকম্পের পরপরই আশঙ্কা করা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে রাজধানী কারাকাসের কাছের উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরায়। ওই এলাকাতেই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ধসে পড়া বহু ভবনের ধ্বংসস্তূপে এখনো উদ্ধারকাজ চলছে।
ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্টের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তথ্যে জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪০ জন। তবে এখনো কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশ করেনি দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ভূমিকম্পে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। তাদের অনেকে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন, আবার অনেকে অস্থায়ী তাঁবু শিবিরে দিন কাটাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা বর্তমান হিসাবের দ্বিগুণ হতে পারে।
এদিকে ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে সরকারের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলার সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভূমিকম্পের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে সেনা মোতায়েনে বিলম্ব, প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জামের সংকট এবং সমন্বয়হীনতার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলায় সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সানা/আপ্র/১৯/৭/২০২৬