বাগেরহাটে স্বামী, তার কয়েকজন সহযোগী এবং গোয়েন্দা পুলিশের কতিপয় সদস্যের বিরুদ্ধে পারিবারিক নির্যাতন, ষড়যন্ত্র ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শারমিন সুলতানা নামে এক শিক্ষানবীশ আইনজীবী ও গৃহবধূ। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সবকিছুকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত স্বামী।
রোববার (১৯ জুলাই) সকালে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শারমিন সুলতানা। তিনি বাগেরহাট শহরের সরুই আমলাপাড়া এলাকার মৃত শেখ রস্তম আলীর মেয়ে এবং জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের সহকারী রেকর্ড কিপার এম. এম. মাহফুজুর রহমান মুন্নার স্ত্রী।
লিখিত বক্তব্যে শারমিন সুলতানা জানান, ২০০৫ সালে রেজিস্ট্রি কাবিননামার মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ১৫ বছর বয়সী এক কন্যা ও ৯ বছর বয়সী এক পুত্রসন্তান রয়েছে। তার স্বামী ২০০১ সালে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নকলনবিশ হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। পরে ২০১৯ সালে মোহরার পদে উন্নীত হন এবং বর্তমানে জেলা রেজিস্ট্রি অফিসে সহকারী রেকর্ড কিপার হিসেবে কর্মরত আছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, পদোন্নতির পর অবৈধ অর্থের প্রভাবে তার স্বামীর নৈতিক অবক্ষয় ঘটে। তিনি পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন এবং মাদকাসক্ত হয়ে ওঠেন। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে।
শারমিন সুলতানার দাবি, তার স্বামীর সঙ্গে একটি চক্রের যোগসাজশ রয়েছে। ওই চক্রে রুদ্র নাট্যদল ও কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত জাহিদুল ইসলাম যাদু, তপন কুমার দাস ও শামসুল হাদীসহ কয়েকজন সহযোগিতা করছেন। অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা ঠেকাতে তার মোবাইল ফোন নজরদারিতে রাখা হচ্ছে, পাশাপাশি তার ইলেকট্রনিক ডাক ঠিকানা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাব হ্যাক করে পরিচিতদের কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য জাকির হোসেনসহ কতিপয় সদস্য ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করছেন এবং তার স্বামীকে সহযোগিতা করছেন। একই সঙ্গে অফিস ভবনের একটি বিশ্রামকক্ষে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। এসবের প্রতিবাদ করায় ২০২১ সাল থেকে তাকে ও তার সন্তানদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে শারমিন সুলতানা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের ও সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার স্বামীকে কথিত দুর্নীতি, মাদক ও নারীসংক্রান্ত চক্রের প্রভাব থেকে মুক্ত করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত এম. এম. মাহফুজুর রহমান মুন্না মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
সানা/আপ্র/১৯/৭/২০২৬