ফুটবলের মহামঞ্চে নতুন ইতিহাস লিখল স্পেন। লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে লা রোজারা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও বিশ্বসেরার মুকুট উঠল স্পেনের মাথায়। ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলল তারা।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের উত্তেজনা, লড়াই আর আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের পর ম্যাচ ছিল গোলশূন্য। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের জাদুকরী গোলে স্বপ্নভঙ্গ হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার।
একদিকে ছিল অভিজ্ঞতা, আবেগ আর লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ স্বপ্ন; অন্যদিকে ছিল তারুণ্য, কৌশল আর নিখুঁত দলগত ফুটবল। শেষ পর্যন্ত জয় হলো স্পেনের ছন্দময় ফুটবলের। পুরো ম্যাচে বলের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণের ধার এবং মাঠের কৌশলগত আধিপত্যে স্পেনই ছিল এগিয়ে।
শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্পেন। তাদের ছোট ছোট পাস, দ্রুত বল আদান-প্রদান এবং মাঝমাঠের আধিপত্যে চাপে পড়ে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের প্রথমার্ধে লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওইয়ারসাবালরা একাধিকবার সুযোগ তৈরি করলেও আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ দেয়াল হয়ে দাঁড়ান।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে ছিলেন বিশ্বজয়ের নায়ক হওয়ার অপেক্ষায় থাকা লিওনেল মেসি। কিন্তু স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ আর মাঝমাঠের চাপের কারণে ফাইনালে নিজের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পাননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
প্রথমার্ধ শেষে পরিসংখ্যানও ছিল স্পেনের পক্ষে। বলের দখল, পাসিং এবং আক্রমণের সংখ্যায় স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ইউরোপের চ্যাম্পিয়নরা। আর্জেন্টিনা নিজেদের অর্ধেই বেশি সময় কাটিয়েছে।
দ্বিতীয়ার্ধেও পাল্টায়নি ম্যাচের চিত্র। স্পেনের আক্রমণের সামনে আর্জেন্টিনাকে বারবার রক্ষণাত্মক অবস্থান নিতে হয়। গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেও স্পেনের শেষ মুহূর্তের ফিনিশিংয়ের অভাবে এগিয়ে যেতে পারছিল না তারা।
অতিরিক্ত সময়েও একই ধারায় চলতে থাকে লড়াই। প্রথমে স্পেনের একটি গোল বাতিল হয়। কিন্তু হাল ছাড়েনি লা রোজারা। ১০৬তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফেরান তোরেস আর্জেন্টিনার জালে বল পাঠান। সেই এক গোলই হয়ে ওঠে বিশ্বজয়ের সোনালি মুহূর্ত।
শেষদিকে আর্জেন্টিনা ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা চালায়। কিন্তু ম্যাচের শেষ ভাগে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় তারা। এরপর আর ফিরে আসার পথ খুঁজে পায়নি মেসির দল।
৩৯ বছর বয়সী মেসির জন্য এটি ছিল এক আবেগঘন অধ্যায়ের শেষ। বিশ্বকাপের মঞ্চে অসংখ্য স্মৃতি, রেকর্ড ও সাফল্যের পর দ্বিতীয়বার ট্রফি ছোঁয়ার স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল তার।
অন্যদিকে স্পেন প্রমাণ করল, শুধু তারকা নয়—দলগত ঐক্য, পরিকল্পনা ও ধারাবাহিকতাই বিশ্বজয়ের আসল শক্তি। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ ছন্দে থাকা স্পেন শেষ পর্যন্ত সেরার মুকুট পাওয়ার যোগ্যতাই দেখিয়েছে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে আবারও লেখা হলো স্পেনের নাম। ২০১০-এর পর ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তারা ফিরে পেল ফুটবলের সর্বোচ্চ গৌরব।
ফাইনালের ফল:
আর্জেন্টিনা ০-১ স্পেন
গোল:
ফেরান তোরেস (১০৬ মিনিট)
চ্যাম্পিয়ন: স্পেন
রানার্সআপ: আর্জেন্টিনা
সানা/আপ্র/২০/৭/২০২৬