ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অনন্য অধ্যায়ের জন্ম দিলেন স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই এমন এক বিরল কীর্তি গড়েছেন তিনি, যা এর আগে কোনো ফুটবলার করে দেখাতে পারেননি। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নেমেই ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে কিশোর বয়সে উয়েফা ইউরো ও ফিফা বিশ্বকাপ—দুই বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার রেকর্ড গড়েছেন এই স্প্যানিশ বিস্ময়বালক।
বার্সেলোনার এই তরুণ উইঙ্গার ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে স্পেনের হয়ে ফাইনালে খেলেছিলেন। সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে স্পেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ইউরোর ফাইনালে মাঠে নেমে তিনি আগেই গড়েছিলেন সবচেয়ে কম বয়সী ফাইনাল খেলোয়াড়ের রেকর্ড।
দুই বছর পর বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ বিশ্বকাপের ফাইনালেও স্পেনের জার্সিতে মাঠে নামলেন ইয়ামাল। ফলে একই সঙ্গে ইউরো ও বিশ্বকাপের ফাইনালে কিশোর বয়সে খেলার বিরল অর্জন এখন শুধু তার নামের পাশে।
ইয়ামালের উত্থান যেন আধুনিক ফুটবলের এক বিস্ময়গাথা। অল্প বয়সেই তিনি ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে একের পর এক রেকর্ড ভেঙেছেন। ২০২৪ ইউরোতে তিনি ছিলেন স্পেনের শিরোপা জয়ের অন্যতম নায়ক। ওই আসরে তিনি সবচেয়ে কম বয়সে ইউরোতে খেলা, গোল করা এবং ফাইনালে অংশ নেওয়ার মতো একাধিক রেকর্ড গড়েছিলেন।
বার্সেলোনার হয়েও ইয়ামালের পথচলা ছিল রেকর্ডময়। মাত্র ১৫ বছর বয়সে ক্লাবটির মূল দলে অভিষেক হওয়া এই ফুটবলার পরে ইউরোপের অন্যতম সেরা তরুণ প্রতিভা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
২০২৬ বিশ্বকাপেও স্পেনের আক্রমণভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ছিলেন ইয়ামাল। তার গতি, বল নিয়ন্ত্রণ, সৃজনশীলতা ও ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা স্পেনকে ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছাতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
ফুটবল ইতিহাসে এর আগে অনেক কিংবদন্তি তরুণ বয়সে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের ছাপ রেখেছেন। কিন্তু একই কিশোর বয়সে ইউরো ও বিশ্বকাপ—দুই মহাদেশীয় ও বৈশ্বিক শ্রেষ্ঠত্বের ফাইনালে খেলার কীর্তি ইয়ামালকে দিয়েছে সম্পূর্ণ আলাদা পরিচয়।
লিওনেল মেসির প্রজন্মের শেষ অধ্যায়ের পাশে ইয়ামালের মতো নতুন তারকার আবির্ভাব বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যতের প্রতীক হয়ে উঠছে। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই তিনি যে ইতিহাস লিখেছেন, তা হয়তো আগামী বহু বছর অক্ষত থাকবে।
সানা/আপ্র/২০/৭/২০২৬