সহজ জয়ের পথে থাকা ম্যাচ শেষ পর্যন্ত জমে উঠেছিল শেষ ওভারের নাটকীয়তায়। মাত্র পাঁচ বলে প্রয়োজন ছিল চার রান, হাতে ছিল ছয় উইকেট। কিন্তু পরপর দুই বলে দুই ব্যাটসম্যানের বিদায়ে হঠাৎ করেই শঙ্কা তৈরি হয় বাংলাদেশের শিবিরে। শেষ পর্যন্ত শেখ মেহেদি হাসানের দৃঢ়তায় দুই বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয় টাইগাররা।
বুলাওয়েতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ জয় পায় ৪ উইকেটে। এই সফরে একমাত্র টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে ব্যর্থতার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছে বাংলাদেশকে।
জয়ের ভিত গড়ে দেয় বোলিং ও ফিল্ডিং। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে একসময় ১৬০-১৭০ রানের পথে এগোচ্ছিল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু শেষ দিকে দুর্দান্ত বোলিং ও চমৎকার ফিল্ডিংয়ে তাদের ১৪৩ রানে আটকে রাখে বাংলাদেশ।
জিম্বাবুয়ের হয়ে ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ৩৮ বলে ৪৭ এবং তিন নম্বরে নামা ডিওন মায়ার্স ৫৩ বলে ৭৩ রান করেন। এ দুজন ছাড়া দলের আর কোনো ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। শেষ পাঁচ ওভারে মাত্র ৩৪ রান তুলতে পারে স্বাগতিকরা।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সাইফউদ্দিন নেন দুটি উইকেট। এছাড়া শেখ মেহেদি হাসান, রিশাদ হোসেন ও আবদুল গাফফার সাকলাইন একটি করে উইকেট নেন। শেষ ওভারে তাসকিন আহমেদ মাত্র ছয় রান দিয়ে জিম্বাবুয়েকে দেড়শ রানের আগেই থামিয়ে দেন।
রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ইনিংসের প্রথম ওভারেই সাইফ হাসান আউট হয়ে ফিরে যান। পাওয়ার প্লেতে মাত্র ৩০ রান তুলতে পারে বাংলাদেশ। এরপর তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন ৫৫ রানের জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেন। পারভেজ ২২ বলে ২৫ রান করে বিদায় নেন।
এরপর তানজিদ হাসান ও ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় ম্যাচ বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। দুজনের ৪৪ বলে ৬৩ রানের জুটিতে জয়ের পথ সহজ হয়ে যায়। হৃদয় ১৯ বলে ২৪ রান করে আউট হন। আগের দুই ম্যাচে ভালো করা ইয়াসির আলি করেন ১০ রান।
শেষ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ছয় রান। প্রথম বলে এক রান নেন তানজিদ। পরের বলেই লো ফুল টসে বোল্ড হন মোসাদ্দেক হোসেন। এরপর ছক্কা মারতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।
তিন বলে তখন প্রয়োজন চার রান। ব্র্যাড ইভান্সের পরের বলটি শেখ মেহেদি হাসানের প্যাডে লাগলে এলবিডব্লিউর আবেদন করে জিম্বাবুয়ে। তবে বল করার সময় ফিল্ডারের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে আম্পায়ার সেটিকে ডেড বল ঘোষণা করেন। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছুটা উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। ইভান্স ও মেহেদির মধ্যে হয় বাকবিতণ্ডাও।
পরের বলেই অবশ্য সব উত্তেজনার অবসান ঘটান মেহেদি। এক্সট্রা কাভার দিয়ে চার মেরে বাংলাদেশকে জয় এনে দেন তিনি।
পুরো ম্যাচে ব্যাট হাতে অসাধারণ ছিলেন তানজিদ হাসান। ৫৮ বলে চারটি ছক্কায় ৬৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার পান তিনি। টানা দুটি অর্ধশতকে সিরিজসেরার পুরস্কারও নিজের করে নেন এই ওপেনার।
এই জয়ের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ের নেতৃত্বে প্রথম সিরিজ জয় পেল বাংলাদেশ। কঠিন সফরের শেষটা অন্তত জয় দিয়ে রাঙিয়ে দেশে ফেরার সুযোগ পেল টাইগাররা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
জিম্বাবুয়ে: ২০ ওভারে ১৪৩/৭
(মায়ার্স ৭৩, বেনেট ৪৭; সাইফউদ্দিন ২/৩৫)
বাংলাদেশ: ১৯.৪ ওভারে ১৪৪/৬
(তানজিদ হাসান ৬৬, হৃদয় ২৪, পারভেজ ২৫; ইভান্স ২/২৬)
ফল: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: তানজিদ হাসান।
সিরিজসেরা: তানজিদ হাসান।
সানা/আপ্র/২০/৭/২০২৬