রাজধানীর গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেফতার ২৪ জনকে ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। একই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আরাফাত নামে একজনকে অপ্রাপ্তবয়স্ক দাবি করায় তাকে কারাগারে পাঠিয়ে অধিকতর শুনানির জন্য রোববার দিন ধার্য করা হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিমান্ডে যাওয়া ২৪ আসামি হলেন আ. রহিম, জাহাঙ্গীর হোসেন, আলমগীর হোসেন, সাব্বির হোসেন, কামরুল হাসান (আলম), মুন্না মিয়া, সামিন ইয়াছির (সাদাফ), রাতুল, এইচ এম জাকারিয়া রহমান ওমান, মিনহাজুল ইসলাম ফাহাদ, সোহেল আহম্মেদ, সোহরাব, হযরত আলী, আজহারুল ইসলাম মাসুদ, চাঁন মিয়া, হাবিব সিকদার, জহির হোসেন, মেহেদী হাসান, কবির ভান্ডারী, বাবুল গোপ, ফরিদ আহমেদ, ইন্দ্রনীল দেব শর্মা, নজরুল ইসলাম ও মাসুদ হাসান শামীম।
এর আগে শুক্রবার গুলশানে মিছিলের ঘটনায় ৩২ জনকে গ্রেফতারের তথ্য দেয় পুলিশ। ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে শনিবার পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, গ্রেফতার ব্যক্তিরা মিছিলে ‘সরাসরি অংশগ্রহণকারী’। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাউদ হোসেন জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে গুলশান-১ এলাকায় কয়েকশ মানুষের অংশগ্রহণে ওই মিছিল হয়। পুলিশ মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় গুলশান থানার এসআই মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই রুহুল আমিন ২৪ আসামিকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে তিনি মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে মিছিলের মূল পরিকল্পনাকারীকে শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং ‘ষড়যন্ত্রকারী ও অর্থের যোগানদাতা’ সম্পর্কে তথ্য জানতে আসামিদের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে আদালতকে জানান।
শুনানিতে আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। এ সময় আরাফাতকে শিশু দাবি করে তার আইনজীবী অধিকতর শুনানির আবেদন করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন বলেন, আরাফাতকে শিশু হিসেবে দাবি করায় রোববার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা ও অধিকতর শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। তাকে আপাতত কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, শুক্রবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানা এলাকায় কার্যক্রম স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতা এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সমবেত হন। এ সময় তারা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ‘নির্বাচিত সরকারের ভাবমূর্তি নস্যাৎ করাসহ সরকারবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলার লক্ষ্যে’ তারা সমাবেশের আয়োজন করেন। এ সময় ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপের অভিযোগও করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল জব্দ করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মিছিলে সরাসরি অংশ নেওয়া অন্যদেরও শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এদিকে আদালতের আদেশের পর ২৪ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মিছিলের পরিকল্পনা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করবে তদন্তকারী সংস্থা।
সানা/১৩/৯/২০২৬