এ টি এম সাজ্জাদ হোসেন সাবু, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা): গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা প্রায় সাত একর জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের ঘটনায় অভিযোগের পুনঃতদন্ত এবং সাপমারা ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) বেলাল হোসেনকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের পণ্ডিতপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মকবুল হোসেন বলেন, পণ্ডিতপুর মৌজার জেএল-৮৬-এর ৫ নম্বর খতিয়ানের ৫০৫ নম্বর দাগে প্রায় সাত একর জমি অন্তত ৪০ বছর ধরে পণ্ডিতপুর গ্রামের ১৫ থেকে ১৬টি পরিবার চাষাবাদসহ ভোগদখল করে আসছে। সম্প্রতি একই গ্রামের সাঁওতাল সম্প্রদায়ের লুকাস মরমু, বীরেন মরমু, ইস্তিফানসহ কয়েকজন ওই জমি তাঁদের বাপ-দাদার সম্পত্তি বলে দাবি করছেন।
মকবুল হোসেন বলেন, জমি নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধে না গিয়ে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি সাপমারা ইউনিয়নে কর্মরত তহসিলদার বেলাল হোসেন ভুক্তভোগীদের না জানিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে গোপনে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়ে মকবুল হোসেন বলেন, বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে তহসিলদার বেলাল হোসেনকে অপসারণেরও দাবি জানান তিনি।
তবে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জমি দাবিদার লুকাস মরমু ও বীরেন মরমু। তাঁদের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিগুলো তাঁদের বাপ-দাদার সম্পত্তি। অন্যরা জোরপূর্বক জমিগুলো দখলে রেখেছেন। জমি উদ্ধারের চেষ্টা করতে গেলে তাঁদের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে সাপমারা ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) বেলাল হোসেন বলেন, তিনি তদন্তের বিষয়টি অস্বীকার করছেন। তাঁর জানা মতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নোটিশ দিয়ে অফিসে ডাকা হয়েছে। সেখানে তাঁদের অভিযোগের বিষয়টি শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল কুদ্দুস সরকার, মো. বাদশা মিয়া, লোকমান হোসেন, শাহীন মিয়া, রাজ্জাক মণ্ডল, মোস্তফা, জাফিরুল ইসলাম, ওয়েজ কুরনী, আবদুল মতিন ও আবদুল লতিফসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১২/৯/২০২৬