দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরো দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৫৬ জন। নতুন দুই মৃত্যুই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৩ জনে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরের ১২ দিনেই মারা গেছেন ৪৬ জন - যা চলতি বছরের কোনো এক মাসে সর্বোচ্চ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। বুলেটিন অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১০৮ জন, দক্ষিণ সিটিতে ৭৬ জন এবং ঢাকার দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৫১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
এ সময়ে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৪৪ জন, চট্টগ্রামে ১০৩, খুলনায় ১৯৯, ময়মনসিংহে ৪৮, রাজশাহীতে ৭৩, রংপুরে ৪৭ এবং সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে সাতজন ভর্তি হয়েছেন। সব মিলিয়ে এক হাজার ৫৬ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
তবে একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন এক হাজার ৫৪ জন। ফলে হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তির চাপ কিছুটা কমলেও আক্রান্তের সংখ্যা এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫০ হাজার ২৭৬ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৬ হাজার ৬৯৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, সেপ্টেম্বরের প্রথম ১২ দিনেই ডেঙ্গুতে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের কোনো মাসে এত বেশি মানুষের মৃত্যু হয়নি। ফলে চলতি মাসকে ঘিরে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে উদ্বেগ আরো বেড়েছে। এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সেপ্টেম্বরের শেষভাগ ও অক্টোবরের শুরুর দিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।
ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে শনিবার থেকেই দেশব্যাপী তিন মাসের প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এ কর্মসূচি। এতে সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। সরকার বলছে, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর হিসাব সংরক্ষণ করছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহতম পরিস্থিতি দেখা যায়। ওই বছর তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং মারা যান এক হাজার ৭০৫ জন। গত বছরও ডেঙ্গুতে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয় এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন প্রায় এক লাখ দুই হাজার মানুষ।
এ বছরের পরিস্থিতি এখনো ২০২৩ সালের পর্যায়ে না পৌঁছালেও সেপ্টেম্বরের দ্রুত বাড়তে থাকা মৃত্যুহার নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনসহ খুলনা, বরিশাল ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন অঞ্চলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি রোগী শনাক্ত, চিকিৎসা ও নজরদারি কার্যক্রম আরো জোরদার করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
সানা/ডিসি/১২/৯/২০২৬