গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

জালিয়াতি করে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৪৬ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২১:১২ এএম ২০২৬
জালিয়াতি করে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
ছবি

বগুড়া জেলা পুলিশ

আজাদুর রহমান, বগুড়া: বগুড়া জেলা পুলিশের বিভিন্ন বিল-ভাউচারে জালিয়াতি করে কোটি টাকার বেশি সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে এ ঘটনায় জেলা পুলিশের ছয় সদস্য, একজন সিভিল কর্মচারী ও জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের এক অডিটরসহ মোট আটজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি। অভিযুক্তরা হলেন— বগুড়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অফিস সহকারী রাজিবুল ইসলাম, কনস্টেবল আসাদুজ্জামান আরিফ, আমিরুল ইসলাম, নাসির উদ্দীন, রাজু আহম্মেদ, সোলাইমান হোসেন, জেলা বিশেষ শাখায় কর্মরত এএসআই কমল হোসেন এবং জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের অডিটর ফিরোজ আলম।

ঘটনার পর গত ২৬ আগস্ট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আসাদুজ্জামানকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ। কমিটি ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পাশাপাশি তাদের ব্যাংক হিসাবের, বিল-ভাউচার ও সরকারি নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলা পুলিশের বিভিন্ন টিএ-ডিএসহ অন্যান্য বিল-ভাউচার তৈরি করে অনলাইনে দাখিল করা হতো। পরে জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট অডিটর সেসব বিল যাচাই করে অনুমোদন দিতেন। অনুমোদনের পর বিলের টাকা সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের ব্যাংক হিসাবে জমা হতো। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া বা অতিরিক্ত বিলের পাওয়া অর্থ পরে নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির একজন সদস্য জানান, বগুড়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক মানিকুর রহমান পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন বিল-ভাউচার যাচাইয়ের সময় অসংগতি দেখতে পান। বিষয়টি তিনি পুলিশ সুপারকে জানান। পরে অফিস সহকারী রাজিবুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।

তদন্ত কমিটির তথ্য অনুযায়ী, কমিউনিটি ব্যাংকের বগুড়া শাখায় কনস্টেবল আসাদুজ্জামান আরিফের হিসাবে ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া অভিযুক্ত এএসআই কমল হোসেনের হিসাবে গত এক বছরে প্রায় ৩২ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। অন্য কয়েকজন পুলিশ সদস্যের হিসাবেও ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা করে লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র।

তদন্ত কমিটির আরেক সদস্য জানান, অফিস সহকারী রাজিবুল ইসলাম ও অডিটর ফিরোজ আলমের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি টাকা জমা হয়নি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি ও অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতেন।

অভিযুক্ত এক পুলিশ সদস্য দাবি করেন, তাঁর ব্যাংক হিসাবে আড়াই লাখ টাকা পাঠানোর পর তিনি ৫০ হাজার টাকা পেয়েছেন। বাকি দুই লাখ টাকা ব্যাংক থেকে তুলে অফিস সহকারী রাজিবুলকে দিতে হয়েছে। এএসআই কমল হোসেন তাঁর ব্যাংক হিসাবে ৩২ লাখ টাকা লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করলেও এসব টাকার উৎস সম্পর্কে তিনি জানেন না বলে দাবি করেন। তদন্ত কমিটির প্রধান ও বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা তদন্ত শুরু করেছি। জড়িতদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

সানা/কেএমএএ/আপ্র/১২/৯/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

জ্বালানি সংকটের কথা বললেই স্বৈরাচার ফেরার হুমকি: শফিকুর রহমান
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি সংকটের কথা বললেই স্বৈরাচার ফেরার হুমকি: শফিকুর রহমান

জ্বালানি সংকট নিয়ে কথা বললেই সরকার স্বৈরাচার ফিরে আসবে বলে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন...

গোবিন্দগঞ্জে জমির বিরোধ পুনঃতদন্ত ও তহসিলদারের অপসারণ দাবি
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গোবিন্দগঞ্জে জমির বিরোধ পুনঃতদন্ত ও তহসিলদারের অপসারণ দাবি

এ টি এম সাজ্জাদ হোসেন সাবু, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা): গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থা...

কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

মোজাম্মেল হক নয়ন, নীলফামারী: দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বো...

ঘোড়াঘাটের ভেতরে পলাশবাড়ীর সীমানা ফলক নিয়ে উত্তেজনা
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঘোড়াঘাটের ভেতরে পলাশবাড়ীর সীমানা ফলক নিয়ে উত্তেজনা

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার প্রচলিত সীমানার প্রায় ৫০০ মিটার ভেতরে গাইবা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে ড. ইউনূসকে

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এই কর পরিশোধের জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৩ অর্থবছর সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন এই রায় সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে