গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

মির্জাপুরে মাদ্রাসায় শিশু নিপীড়নের অভিযোগ, শিক্ষক-প্রিন্সিপাল আটক

জেলা প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল

জেলা প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ২১:৪৮ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২২:৩৫ এএম ২০২৬
মির্জাপুরে মাদ্রাসায় শিশু নিপীড়নের অভিযোগ, শিক্ষক-প্রিন্সিপাল আটক
ছবি

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

মো. আকরাম হোসেন: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের এক শিশু শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক আল-আমিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। একই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানকেও আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে উপজেলার পারদিঘী গ্রামের হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান মির্জাপুর বাইপাস বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ভাড়া নিয়ে ‘মারকাজুল উম্মাহ মাদ্রাসা’ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় তিন বছর আগে উপজেলার শশধরপট্টি গ্রামের আল-আমিন ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।

পরিবারের অভিযোগ, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শিশুটিকে মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে ভর্তি করা হয়। এরপর গত তিন মাস ধরে শিক্ষক আল-আমিন ভয়ভীতি দেখিয়ে শিশুটিকে নিয়মিত যৌন নিপীড়ন করে আসছিলেন। একপর্যায়ে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে ভয় ও লজ্জায় সে প্রথমে পরিবারের কাছে বিষয়টি প্রকাশ করেনি।

চিকিৎসা শেষে শিশুটিকে আবার মাদ্রাসায় পাঠানো হলে পরিবারের দাবি, পরবর্তী ১১ দিনে সে আরো আটবার একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়। এতে শিশুটি পুনরায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে মাকে ফোন করে তাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য আকুতি জানায়।

বাড়িতে ফেরার পরদিন শিশুটির মা টয়লেটে রক্ত দেখতে পান। এরপর ১০ সেপ্টেম্বর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে শিশুটির চিকিৎসা ও পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন এবং শিশুটির বক্তব্যের ভিত্তিতে পরিবার নির্যাতনের বিষয়টি জানতে পারে বলে দাবি করেছে।

পরদিন ১১ সেপ্টেম্বর সকালে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের সদস্যরা ঘটনার বিচার চাইতে মাদ্রাসায় যান। পরিবারের অভিযোগ, সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষক ও প্রিন্সিপাল তাদের সঙ্গে অসংবেদনশীল ও অপমানজনক আচরণ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও ক্ষুব্ধ জনতা মাদ্রাসায় ঢুকে আল-আমিনকে মারধর করেন।

খবর পেয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে অভিযুক্ত শিক্ষক আল-আমিন ও প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানকে থানায় নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী শিশুটির মা বলেন, “ওই শিক্ষক আমার নিষ্পাপ সন্তানের চরম ক্ষতি করেছে। আমি এই ঘৃণ্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক আল-আমিন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য, শিক্ষার্থী মিথ্যা বলছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা। একটি প্রতিষ্ঠানের এমন ঘটনা পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ভাবমূর্তি নষ্ট করে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।”

মির্জাপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আটক দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সানা/আপ্র/১২/৯/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

জ্বালানি সংকটের কথা বললেই স্বৈরাচার ফেরার হুমকি: শফিকুর রহমান
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি সংকটের কথা বললেই স্বৈরাচার ফেরার হুমকি: শফিকুর রহমান

জ্বালানি সংকট নিয়ে কথা বললেই সরকার স্বৈরাচার ফিরে আসবে বলে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন...

গোবিন্দগঞ্জে জমির বিরোধ পুনঃতদন্ত ও তহসিলদারের অপসারণ দাবি
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গোবিন্দগঞ্জে জমির বিরোধ পুনঃতদন্ত ও তহসিলদারের অপসারণ দাবি

এ টি এম সাজ্জাদ হোসেন সাবু, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা): গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থা...

কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

মোজাম্মেল হক নয়ন, নীলফামারী: দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বো...

ঘোড়াঘাটের ভেতরে পলাশবাড়ীর সীমানা ফলক নিয়ে উত্তেজনা
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঘোড়াঘাটের ভেতরে পলাশবাড়ীর সীমানা ফলক নিয়ে উত্তেজনা

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার প্রচলিত সীমানার প্রায় ৫০০ মিটার ভেতরে গাইবা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে ড. ইউনূসকে

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এই কর পরিশোধের জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৩ অর্থবছর সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন এই রায় সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে