গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

মেনু

ভিড়ে ফুরিয়ে যাচ্ছে মজুত, ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধের অভিযোগ মালিকদের; সরকার বলছে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই

যুদ্ধ আতঙ্কে তেলের জন্য হাহাকার

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:১৩ পিএম, ০৭ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২৩:১৩ এএম ২০২৬
যুদ্ধ আতঙ্কে তেলের জন্য হাহাকার
ছবি

শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৪ নম্বর গেটে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু -ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ঘিরে দেশে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গত কয়েকদিন ধরে ভিড় বেড়েছে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের চালকদের। অতিরিক্ত চাহিদা ও সরবরাহ ঘাটতির কারণে অনেক পাম্পে সাময়িকভাবে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্রাহকেরা।

গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের পর শনিবারও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তেল না পেয়ে অনেক চালককে একাধিক পাম্প ঘুরতে দেখা গেছে। পাম্প মালিকদের অভিযোগ, বিশেষ পরিস্থিতিতেও ডিপো থেকে শনিবার তেল সরবরাহ না করায় সংকট আরো বেড়েছে।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা: রাজধানীর বনানীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সালেহ আক্তার জানান, আগের দিন কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাননি। তাই শনিবার সকালেই তেল নিতে বের হন তিনি। তিনি বলেন, বেলা বাড়লে তেল না পাওয়ার আশঙ্কায় সকালেই বের হয়েছিলাম। কিন্তু সকাল ১১টা পর্যন্ত কয়েকটি পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। সবাই বলছে গত দুই দিনে অতিরিক্ত তেল তোলার কারণে পাম্পে মজুত শেষ হয়ে গেছে। তার অভিযোগ, সরকার তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকার কথা বললেও বাস্তবে অনেক ফিলিং স্টেশনে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এমন অভিযোগ শুধু তারই নয়; রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনেক চালকই একাধিক পাম্প ঘুরেও তেল পাননি। কেউ কেউ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরে গেছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ লাইন: সরেজমিনে দেখা গেছে, কোথাও কোথাও তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় পাম্পের সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। আবার কিছু পাম্পে তেল পাওয়ার আশায় গাড়ির দীর্ঘ সারি মূল সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
সংসদ ভবনের পাশের খালেক পাম্পের সামনে গাড়ির লাইন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হয়ে জিয়ার মাজারের লেকের কোণা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আসাদ গেট এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে গাড়ির সারি চলে যায় প্রিপারেটরি স্কুল পর্যন্ত। শাহবাগের মেঘমা পাম্পের লাইন গিয়ে দাঁড়ায় পিজি হাসপাতাল পর্যন্ত। অনেক জায়গায় গাড়ি ও মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা দুটি লাইনে প্রায় এক মাইল পর্যন্ত দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল কেনায় মজুত শেষ: ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, গুজব ও আশঙ্কার কারণে গত দুই দিনে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি তেল বিক্রি হয়েছে। ফলে অনেক পাম্পের মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যায়।
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি নাজমুল হক বলেন, আতঙ্কের কারণে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনেছেন। এতে অনেক পাম্পে মজুত শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, সাধারণত শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় তেলবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে এবং এ সময় পাম্পে তেল সরবরাহ করা হয় না। তবে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে সেচ মৌসুমে এই নিয়ম শিথিল করা হয়। তার অভিযোগ, এত বড় সংকটের সময়ও নিয়ম শিথিল না করায় অনেক পাম্প বিপাকে পড়েছে।
রমনা পেট্রোল পাম্পের মালিক নাজমুল হক জানান, শনিবার দুপুর ২টা ৩৯ মিনিটের দিকে তার পাম্পে তেল শেষ হয়ে যায়। এতে গ্রাহকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে পাম্পে তেল না থাকার বিষয়টি যাচাই করে। তিনি বলেন, সকাল থেকেই কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল যে তেল শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই, ৯ তারিখ আরো ২টি ভেসেল আসছে: জ্বালানি তেল নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
শনিবার (৭ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৪ নম্বর গেটে উপস্থিত সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।  আগামী ৯ মার্চ আরো ২টি ভেসেল আসছে জানিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আগামীকাল থেকে ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্ট কাজ শুরু করবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে যে প্যানিক কাজ করছে তার কোনো যুক্তি নেই। তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছে সরকার। তিনি আরো বলেন, আজকে এই সমস্যাটা সৃষ্টি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জন্য এবং স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি উদ্বিগ্নতা মানুষের মধ্যে বেড়েছে। তবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। আমরা রেশরিংটা করেছি এই জন্যই যে, একটা অনিশ্চয়তা আছে। যুদ্ধটা কতদিন চলবে? সেই জন্য আমরা একটা রেশন করেছি। কিন্তু মানুষ এই রেশনটাকে ভয় পেয়ে স্টক করা শুরু করেছে। আসলে আমাদের তেলের কোনো অভাব নেই। শুধু তাই না, আগামী ৯ মার্চ তারিখে আরো ২টা ভ্যাসেল আসছে সুতরাং তেলের কোনো সমস্যা নেই। আমি সবার কাছে অনুরোধ করব, বিশেষ করে মিডিয়ার কাছে অনুরোধ করব জনগণকে এই মেসেজটা দেওয়া যে, তাড়াহুড়া করে তেল কেনার দরকার নেই। আমাদের কাছে মজুদ আছে। আমরা পেট্রোল পাম্পে তেল দিচ্ছি এবং চলবে। এটা এটার জন্য লাইন দিয়ে সারারাত জেগে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। মানুষ গেলে তেল পাবে।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পাম্প ম্যানেজমেন্ট আছে, আমরা নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল দিচ্ছি। এখন কোনো পাম্প যদি জলদি বিক্রি করে ফেলে তারপরে তো আর ওই দিন তেল পাবে না। তার পরের দিন ওয়েট করতে হবে। সেটার জন্য আমরা মনিটর করছি। আমরা দেখব যাতে এরকম কম হয়, সে বিষয়টা দেখব। আমরা কালকে থেকে আমরা মোবাইল কোড নামায়ে দেব। সব রকমের ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।

মোটরসাইকেলে বর্তমানে যে দুই লিটার করে তেলের রেশনিং করা হচ্ছে, তাতে চালকদের একদিন পরপরই পাম্পে যেতে হচ্ছে। রেশনিংয়ের এই পরিমাণ আরেকটু বাড়ানো যায় কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না, বাড়ানো সম্ভব নয়। আমি তো আগেই বলেছি যে আমাদের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। কিন্তু যুদ্ধ কবে থামবে, তা আমরা কেউ জানি না। তাই আগে থেকেই নিজেদের প্রস্তুতি নিতে হবে এবং সঞ্চয় রাখতে হবে। আমরা মূলত সেই সঞ্চয়টাই করছি। সুতরাং আমাদের ঘাটতি পড়ার কোনো সুযোগ নেই। তবুও যেহেতু যুদ্ধ চলছে, আমাদের খুব হিসাব করে চলতে হবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গত শুক্রবারও (৬ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। অস্থির হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি জনগণকে গুজবে কান না দিয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুত না করার পরামর্শ দেন। একইদিন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানায়, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে গুজব বা নেতিবাচক প্রচারে প্রভাবিত হয়ে অতিরিক্ত তেল না কেনার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল বিক্রির নির্দেশনা: বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেই অনুযায়ী মোটরসাইকেল সর্বোচ্চ দুই লিটার এবং প্রাইভেটকার সর্বোচ্চ দশ লিটার পর্যন্ত অকটেন বা পেট্রোল নিতে পারবে।
প্রাইভেটকার, জিপ ও মাইক্রোবাসের ক্ষেত্রে প্রতি ট্রিপে ২০ থেকে ২৫ লিটার পর্যন্ত তেল নেওয়ার সুযোগ থাকবে। মিনিবাস ও লোকাল বাস ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ১০০ থেকে ১২০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল নিতে পারবে।

সানা/আপ্র/৭/৩/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

‘যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব’
০৭ মার্চ ২০২৬

‘যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব’

যমুনায় আলেম-ওলামা এবং এতিমদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার

৭ মার্চ ঘিরে ভিন্ন বাস্তবতা
০৭ মার্চ ২০২৬

৭ মার্চ ঘিরে ভিন্ন বাস্তবতা

ঢাকায় পদযাত্রা ও আটক, নওগাঁয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাষণ প্রচার

ছুটির দিনেও অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
০৭ মার্চ ২০২৬

ছুটির দিনেও অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ (শনিবার) ছুটির দিনেও অফিস করলেন বিএনপি চেয়ারম্যান...

যে কারণে আকস্মিক হাসপাতালে ছুটে গেলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
০৭ মার্চ ২০২৬

যে কারণে আকস্মিক হাসপাতালে ছুটে গেলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সরকারি হাসপাতালগুলোতে কর্তব্যরত ডাক্তাররা নির্ধারিত অফিস সময়ে উপস্থিত থাকছেন কিনা তা পর্যবেক্ষণের জন...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই