গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে ঢাকার দোহার উপজেলার রাধানগর গ্রামের মা-বাবা হারানো পাঁচ কন্যার দুর্দশার খবর নজরে আসার পর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর নির্দেশে শুক্রবার (১ অক্টোবর) ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর একটি প্রতিনিধি দল পরিবারটির বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেয় এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা ও উপহারসামগ্রী পৌঁছে দেয়। বিষয়টি একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও নিশ্চিত হয়েছে।
‘এক মাসের ব্যবধানে মা-বাবার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, অভাবের সংসারে পাঁচ মেয়ের কী হবে’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হলে তিনি তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রতিনিধি দল পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ জানিয়েছে।
শুক্রবার সংগঠনটির সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের প্রয়াত কৃষক দম্পতি আবুল কালাম আজাদ ও ফরিদা বেগমের বাড়িতে যায়। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মা-বাবা হারানো পাঁচ কন্যার খোঁজখবর নেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোকছেদুল মোমিন মিথুন বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দল-মতনির্বিশেষে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সংগঠনটি গঠন করেছেন। সংবাদমাধ্যমে পরিবারটির দুর্দশার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে এবং তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। তাঁর পক্ষ থেকে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার বার্তা নিয়ে প্রতিনিধি দলটি সেখানে গেছে।
তিনি বলেন, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আরো ছিলেন সংগঠনটির সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, দোহার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীব, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ, ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান মহান, আব্দুল্লাহ আল মিসবাহসহ স্থানীয় নেতারা।
এর আগে দীর্ঘদিনের অভাব-অনটন ও ঋণের চাপে থাকা কৃষক আবুল কালাম আজাদ ও তাঁর স্ত্রী ফরিদা বেগমকে মাত্র ৩১ দিনের ব্যবধানে হারায় পরিবারটি। গত ২৮ আগস্ট ফরিদা বেগমের ঝুলন্ত মরদেহ তাঁদের নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। স্ত্রীর মৃত্যুর এক মাসের মাথায় আবুল কালাম আজাদেরও ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁদের পাঁচ কন্যার মধ্যে একজনের বিয়ে হয়েছে; মা-বাবাকে হারিয়ে বাকি মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
সানা/আপ্র/২/১০/২০২৬