সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গুলি করেছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মতিউর রহমান। আর হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে, ১৯৮১ সালের ২৮ মে হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে এসব কথা জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে বিকেলে প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর এসব তথ্য জানিয়েছেন। তাঁকে সোমবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর গত ১৫ জুলাই রাজধানীর বনানী থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
মোজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদে কী পাওয়া গেছে জানতে চাইলে প্রসিকিউটর তানভীর হাসান বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর জানিয়েছেন, জিয়াউর রহমানকে গুলি করেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মতিউর রহমান।”
তিনি জানান, ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান হত্যার শিকার হন। এর আগে ওই বছরের ২৮ মে তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন বলেও মোজাফফর জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মোজাফফরের দেওয়া তথ্যের পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়েও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানান প্রসিকিউটর তানভীর হাসান।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় মোজাফফর হোসেন গ্রেফতার আছেন। গত ২৩ জুলাই তাঁকে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
তদন্ত সংস্থায় রোববারের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আবারো মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা।
সানা/আপ্র/১৪/৯/২০২৬