ইন্দোনেশিয়া ও ভানুয়াতুতে পৃথক ফেরি দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ১৭০ জনের বেশি। দুটি দুর্ঘটনাই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ঘটেছে। নিখোঁজদের সন্ধানে দুই দেশেই তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ২৪৩ জন আরোহী নিয়ে ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামের একটি যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১৪০ জন। ফেরিটি ডুবে যাওয়ার আগে ৯৭ জনকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। ইন্দোনেশিয়ার তল্লাশি ও উদ্ধার সংস্থার বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে দুর্ঘটনায় পড়ার পর ফেরিটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। ফেরিটি জাভা দ্বীপের সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ কালিমন্তনের বানজারমাসিনের দিকে যাচ্ছিল। রোববার স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ২টার দিকে বানজারমাসিন থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে ফেরিটির সর্বশেষ অবস্থান রেকর্ড করা হয়। শনিবার রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে সুরাবায়া থেকে রওনা হওয়া ফেরিটির রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বানজারমাসিনে পৌঁছানোর কথা ছিল। কর্তৃপক্ষ ভোর ৪টা ১০ মিনিটের দিকে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পিটি ভার্গোর কাছ থেকে দুর্ঘটনার প্রাথমিক খবর পায়। পরে তল্লাশি ও উদ্ধার সংস্থা, নৌবাহিনী, সামুদ্রিক পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থাকে নিয়ে যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। দুর্ঘটনাস্থলে একাধিক উদ্ধারকারী জাহাজ ও একটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। জাভা সাগরের ওই অঞ্চলে অবস্থানরত অন্যান্য জলযানকেও কোনো আরোহী বা ধ্বংসাবশেষ দেখতে পেলে দ্রুত জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর উপকূলে ‘এমভি মাতুই’ নামের একটি আন্তঃদ্বীপ ফেরি ডুবে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩০ জনের বেশি। এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। রয়টার্স জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার উপকূল থেকে প্রায় ১ হাজার ৭৫০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ভানুয়াতুতে শুক্রবার অ্যাম্বাই ও সান্তো দ্বীপের মধ্যবর্তী সামুদ্রিক এলাকায় বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ফেরিটি ডুবে যায়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, খোলা সাগরে অনুসন্ধান কিছুটা কমিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল বরাবর তল্লাশিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। সমুদ্রের স্রোত বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের ওই দিকে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঝড়ো বাতাস ও সাগরের সতর্কবার্তা উপেক্ষা এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহনের মতো চরম অবহেলাকে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জোথাম নাপাত। ভানুয়াতু পার্লামেন্টের লুগানভিল এলাকার প্রতিনিধি মাতাই সেরেমিয়াহ জানান, ‘এমভি মাতুই’-এর এক ক্রু সদস্য সাঁতরে তীরে উঠে বিপদসংকেত দেওয়ার পর উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ওই ক্রু সদস্য জানান, জাহাজটি উল্টে গেছে। এরপরই সাগরে তল্লাশি শুরু করা হয়।
এর আগে গত মাসে ইন্দোনেশিয়ার মাদুরা দ্বীপের উপকূলে পৃথক একটি ফেরিতে আগুন লেগে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল। ১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে যাতায়াতের জন্য ফেরি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম। ভানুয়াতুতেও আন্তঃদ্বীপ নৌযান মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
সানা/আপ্র/১৪/৯/২০২৬