ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের নতুন অভিযানের মুখে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ ইয়েমেনি লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে আফ্রিকার দেশ জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছেন। নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর ইয়েমেনে অন্তত ৪৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা।
জিবুতির অর্থমন্ত্রী ইলিয়াস মুসা দাওয়ালেহ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এক দিনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ইয়েমেনির জিবুতিতে আশ্রয় নেওয়ার তথ্য জানান বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
হুতি বিদ্রোহীরা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালিসহ ইয়েমেনের লোহিত সাগরীয় উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেল, গ্যাসসহ জ্বালানি সরবরাহে আরো বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
এর আগে শুক্রবার এক পোস্টে জিবুতির অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বাব আল-মান্দেব প্রণালি পার হওয়ার সময় মাঝপথে নৌকার জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়া প্রায় ৫০০ শরণার্থীকে উদ্ধার করে উপকূলীয় শহর ওবোকে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে বহু নারী ও শিশু রয়েছে।
ইয়েমেন উপকূল থেকে সমুদ্রপথে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওবোক শহরটি দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনিদের অন্যতম প্রধান আশ্রয়স্থল। একই সঙ্গে পূর্ব আফ্রিকা থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোতে যাওয়ার পথে আফ্রিকার অভিবাসনপ্রত্যাশীরাও ইয়েমেনের এই সমুদ্রপথকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করেন।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মানবিক সহায়তা সমন্বয়কারী কর্মকর্তা সাফিয়া ইব্রাহিম এক ফরাসি বার্তা সংস্থাকে বলেন, নারী ও শিশুসহ বিপন্ন মানুষ ওবোক উপকূলে পৌঁছেছেন। আগামী দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
সংঘাতের নতুন বিস্তারে ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা শুক্রবার সতর্ক করে বলেছে, গত সপ্তাহে সংঘাত নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে দেশটিতে অন্তত ৪৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
সংস্থাটির মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, সংঘাতের কারণে পরিবারগুলো দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয়বারের মতো নিঃস্ব অবস্থায় ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে। লড়াই ছড়িয়ে পড়ায় প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। অবিলম্বে নিরাপদ ও বাধাহীনভাবে ত্রাণ পৌঁছানোর সুযোগ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার চলতি বছরের মার্চের তথ্য অনুযায়ী, জিবুতিতে বর্তমানে ৩৬ হাজারের বেশি নিবন্ধিত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী বসবাস করছেন। তাদের সিংহভাগই সোমালিয়া, ইথিওপিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিক।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার লোহিত সাগরের কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা দখলের পর বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের উপকূল ও দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয় হুতি বিদ্রোহীরা। তাদের দ্রুতগতির অভিযানের মুখে মাকবানাহ, জাবাল হাবাশি ও আল-মাআফেরের মতো ইয়েমেনি জেলার একের পর এক গ্রাম জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
হুতিদের এই অগ্রযাত্রায় একদিকে যেমন ইয়েমেনের বেসামরিক মানুষের বাস্তুচ্যুতি বাড়ছে, অন্যদিকে তেমনি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেবের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব হয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের ওপর এর প্রভাব পড়লে আঞ্চলিক সংকটের পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাতেও নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
সানা/আপ্র/১৪/৯/২০২৬