কাপ্তাই লেকের সীমানা জরিপ করে সেখানে থাকা অবৈধ স্থাপনার মালিকদের নাম-ঠিকানাসহ তালিকা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাই কোর্ট। রাঙামাটির জেলা প্রশাসক ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে যৌথভাবে চার মাসের মধ্যে জরিপ শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভুঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আগামী ৬ জানুয়ারি প্রতিবেদন দাখিল ও পরবর্তী আদেশের জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। আদেশের পর তিনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য কাপ্তাই লেক সৃষ্টি করা হলেও বর্তমানে অনেকে অবৈধভাবে লেকের জায়গা দখল করে অবস্থান করছেন এবং লেক দূষণও ঘটাচ্ছেন।
কাপ্তাই লেকের অবৈধ দখল উচ্ছেদের বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার একটি সম্পূরক আবেদন করা হয় জানিয়ে মনজিল মোরসেদ বলেন, এর আগে আদালত উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হলে অনেকেই নিজেদের দখলদার না দাবি করে ওই জায়গার মালিকানা থাকার কথা জানান। ফলে প্রকৃত অবৈধ দখলদার শনাক্ত করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হয়।
তাঁর ভাষ্য, এ অবস্থায় প্রকৃত অবৈধ দখলদার শনাক্ত করতে লেকের সীমানা জরিপ জরুরি। কারণ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে অনেক দখলদার নিজেদের জমির মালিক বলে দাবি করছেন। সীমানা নির্ধারণ করা গেলে প্রকৃত দখলদারদের চিহ্নিত করা সহজ হবে।
কাপ্তাই লেকের সীমানা নির্ধারণে আগে জটিলতা ছিল বলেও জানান এই আইনজীবী। তাঁর মতে, লেক তৈরির সময়কার সীমানা-সংক্রান্ত রেকর্ড জেলা প্রশাসনের কাছে না থাকায় আগে যথাযথভাবে জরিপ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে এবার জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি জরিপ অধিদপ্তরকেও জরিপের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর কাপ্তাই লেকের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য রুল জারি ও জরিপের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাই কোর্ট। পরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হলে প্রকৃত অবৈধ দখলদার শনাক্ত করতে সীমানা জরিপের প্রয়োজনীয়তা আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এরপর রাঙামাটির জেলা প্রশাসককে জরিপ করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হলেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরিপ অধিদপ্তরের সম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রিটকারী সংগঠনের পক্ষ থেকে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে কাপ্তাই লেকের মানচিত্র অনুযায়ী সীমানা জরিপ করে অবৈধ দখলদারদের তালিকা আদালতে দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়।
হাই কোর্টের সর্বশেষ নির্দেশনার ফলে দীর্ঘদিনের দখল ও উচ্ছেদ-সংক্রান্ত জটিলতার একটি সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক ভিত্তি তৈরি হলো। এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিকভাবে জরিপ সম্পন্ন করে প্রকৃত অবৈধ দখলদারদের তালিকা আদালতে দাখিল করাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৬/৮/২০২৬