নোয়াখালীর মাইজদী বাজার এলাকায় ২০১৬ সালে সালিস বৈঠককে কেন্দ্র করে তিন বন্ধুকে গুলি করে হত্যার মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরো তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালী জেলা বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শওকত আলী এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মাইজদী বাজার এলাকার কুদ্দুস উল্যাহর ছেলে ওমর নাছির সাজু ও ওমর শরিফ সুলতান এবং একই এলাকার ফারুকের ছেলে সৌরভ। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন কুদ্দুস উল্যাহ, ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পি ও হারুনুর রশিদ বাবুল।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ মার্চ দুপুরে নোয়াখালী জেলা শহরের মাইজদী বাজার এলাকায় নোয়াখালী সরকারি পুরাতন কলেজ-সংলগ্ন পুকুরে স্থানীয় কিশোর রাজীব (২৩) একটি কুকুরকে গোসল করাতে যান। এ নিয়ে স্থানীয় অনন্তপুর গ্রামের সৌরভের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে সন্ধ্যায় সালিস বৈঠকে বসার কথা ছিল।
সন্ধ্যার দিকে রাজীব তাঁর দুই বন্ধু ওয়াসিম (২২) ও ইয়াছিনকে (২৩) নিয়ে নোয়াখালী সরকারি কলেজের পুরাতন ক্যাম্পাস এলাকায় গেলে সেখানে তাঁদের ওপর অতর্কিত গুলি চালানো হয়। মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে ওই হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
গুলিতে ঘটনাস্থলেই রাজীব নিহত হন। গুরুতর আহত ওয়াসিম ও ইয়াছিনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলেও কয়েক দিন পর তাঁরা মারা যান।
এ ঘটনায় নিহত রাজীবের মা কামরুন্নাহার বেগম বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নোয়াখালী জেলা বিশেষ জজ আদালতের পিপি তাফাক্তার হোসেন বলেন, তিন বন্ধুকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যার অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ ১৯ জন সাক্ষী উপস্থাপন করেছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুজনকে খালাস দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, আদালতের এই রায়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচিত তিন বন্ধু হত্যা মামলায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সানা/আপ্র/১৬/৮/২০২৬